ওয়াশিংটন: হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসস্থান। নিরাপত্তার নিরিখে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বেই ‘জঙ্গি’ হানা! নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চলল গুলি। গুরুতর জখম ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য। জানা গিয়েছে, ওই বন্দুকবাজ আদতে আফগান নাগরিক। নাম রহমানুল্লা লাকানওয়াল। এই ঘটনা ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরেই আফগানদের মার্কিন মুলুকে আসার আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হামলার নিন্দা করে বার্তা দিয়েছেন প্রাক্তন দুই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেন।
হামলার পরেই বুধবার ফ্লোরিডায় বক্তব্য রাখার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘থ্যাংকস গিভিংয়ের ছুটির মধ্যেই আজ ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে আচমকা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়। হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র কয়েক পা দূরে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। যা মানবতার উপর সন্ত্রাসী হামলার সমান।’ তিনি বলেন, ‘যে পশু এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাকে এর মূল্যও চোকাতে হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই বিদেশি আফগানিস্তান নামের নরককুণ্ড থেকে এসেছে।’ এর পরেই সুর চড়িয়ে বাইডেন প্রশাসনকে নিশানা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, বছর চারেক আগে বাইডেনের আমলে হামলাকারী আমেরিকায় এসেছিল। আগের সরকারের আমলে সারা বিশ্ব থেকে ২ কোটি বিদেশি আমেরিকায় এসেছে। এবার মার্কিন সরকার আফগানিস্তান থেকে আসা লোকজনদের পরিচয় খতিয়ে দেখবে। যাঁরা আমেরিকাকে ভালো বাসেন না, তাঁদেরকে দেশছাড়া করা হবে। কোনওরকম সন্ত্রাসী হামলার সামনে আমেরিকা যে মাথা নত করবে না।
কী ঘটেছিল বুধবার? জানা গিয়েছে, দুপুরে নর্থ-ওয়েস্ট ডিসির ফ্যারাগাট ওয়েস্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে ওত পেতে ছিল রহমানুল্লা। ২টো ১৫ মিনিট নাগাদ ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ডের এক মহিলা রক্ষীকে লক্ষ্য করে পর পর দু’টি গুলি চালায় আততায়ী। প্রথমটি বুকে। পরের গুলি মাথায়। তার পরেই অপর এক রক্ষীকে গুলি করে রহমানুল্লা। আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় টহলরত রক্ষীরা। তাঁদেরই একজন রহমানুল্লাকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি চালান। রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে হামলাকারী। জখম অবস্থায় তাঁকে প্রায় নগ্ন করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। অন্যদিকে, বাকিরা সিপিআর দিতে শুরু করেন গুলিবিদ্ধ রক্ষীদের। এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল জানান, গুরুতর জখম দুই নিরাপত্তা রক্ষীকে দু’টি পৃথক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। আর এই হামলার পরেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে ‘অপারেশন অ্যালাইস ওয়েলকাম’ প্রসঙ্গ। ২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তান দখল করতেই যাঁদের প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের আমেরিকায় নিয়ে আসে বাইডেন প্রশাসন। প্রায় ২০ হাজার আফগান, মার্কিন কূটনীতিকদের আমেরিকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সেই সময়ই রহমানুল্লা মার্কিন মুলুকে আসেন। সেই সময় বিরোধীরা বাইডেন সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল।