নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর, আরামবাগ ও কলকাতা: ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় সরাসরি গেরুয়া শিবিরকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন উত্তরপ্রদেশের সংস্কৃতির কোনও জায়গা বাংলায় নেই। মমতা বলেন, একটা গরিব হকার তার জিনিস বিক্রি করতে গিয়েছেন। সব মিটিংয়েই কেউ না কেউ কিছু বিক্রি করতে আসেন। কেউ চা বিক্রি করেন, কেউ ভেলপুরি বিক্রি করেন, তিনিও তাঁর মতো খাবার বেচতে গিয়েছেন। তাঁর মাথায় আসেনি তিনি কোনটা বেচবেন। আর তাঁকেই ধরে মারধর করা হয়েছে! এই অন্যায় যারা করেছে তাদের সব কটাকে গ্রেফতার করিয়েছি। যার তার গায়ে হাত দিচ্ছে! মুখ্যমন্ত্রীর পরিষ্কার হুংকার, এটা বাংলা, এটা উত্তরপ্রদেশে নয়। এখানে তোমাদের হুকুম চলবে না।
কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, প্যাটিস কাণ্ডে ময়দান থানার পুলিশ বুধবার গভীর রাতে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম সৌমিক গোলদার (২৩), তরুণ ভট্টাচার্য (৫১) ও স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী (২৩)। সৌমিক ও স্বর্ণেন্দু উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। তরুণ হাওড়ায় থাকে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়। আদালত সূত্রের খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। সেইমতো হাজার টাকার বন্ডে তাদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে।
এদিকে, গীতাপাঠের মতো ধর্মীয় একটি অনুষ্ঠানে সাধারণ নিরপরাধ একজন বিক্রেতার উপর এহেন আঘাতের প্রতিবাদে সমাজের সর্বস্তর থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে রীতিমতো সোচ্চার হয়েছে। সমাজের বিশিষ্ট মানুষজনও এই ঘটনায় অবাক, দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন তাঁরা। গেরুয়া ধ্বজাধারীদের প্রতি কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, স্বামী বিবেকানন্দ জীবে প্রেমেই বিশ্বাসী ছিলেন। গীতাপাঠের মতো মহতী অনুষ্ঠানে এমনটা কোনওভাবেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলায় কে কী খাবেন, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত অভিরুচি। সেখানে অন্যের হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিরীহ ওই প্যাটিস বিক্রেতা আর পাঁচজন হকারের মতোই রবিবার তাঁর খাবার বেচতে গিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে গীতাপাঠের আয়োজকদের আপত্তি থাকলে তাঁরা আগাম জানাতেই পারতেন। পরিবর্তে তাঁর গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে! এটা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গত, ব্রিগেডে আক্রান্ত প্যাটিস বিক্রেতাকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে সিটু। আক্রান্ত রিয়াজুলের সঙ্গে কথা বলেছেন সিটু নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার সকালে আরামবাগ কেশবপুরের বাড়িতে বসে তিন অভিযুক্তের গ্রেফতারির খবর পান ওই হকার। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু এর ভবিষ্যৎ পরিণাম নিয়ে রিয়াজুল এবং তাঁর পরিবার চিন্তিত।