Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি খেয়েছেন, এবার বিকাশের নিজেরই চাকরি যাচ্ছে’, বাংলা থেকে রাজ্যসভাতেও ‘শূন্য’ হচ্ছে সিপিএম

বিধায়ক শূন্য। লোকসভার সাংসদ সংখ্যাও শূন্য। এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ সংখ্যাও শূন্য হতে চলেছে। রাজনীতির কারবারিদের কথায়, ‘হারের হ্যাটট্রিক লাল পার্টির’।

‘২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি খেয়েছেন, এবার বিকাশের নিজেরই চাকরি যাচ্ছে’, বাংলা থেকে রাজ্যসভাতেও ‘শূন্য’ হচ্ছে সিপিএম
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বিধায়ক শূন্য। লোকসভার সাংসদ সংখ্যাও শূন্য। এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ সংখ্যাও শূন্য হতে চলেছে। রাজনীতির কারবারিদের কথায়, ‘হারের হ্যাটট্রিক লাল পার্টির’। বিষয়টি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিপিএমের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন তাঁরা। এই আবহে সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর প্রতি তৃণমূলের কটাক্ষ, ‘আগে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি খেয়েছেন, এবার বিকাশের নিজেরই চাকরি চলে যাচ্ছে।’ 

Advertisement

এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দেবে নির্বাচন কমিশন। ঘটনাচক্রে এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্যসভার ভোট হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। চলতি বছরের ২ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিকাশবাবু ছাড়াও এই তালিকায় আছেন তৃণমূলের সুব্রত বক্সি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাকেত গোখলে। মৌসম বেনজির নুর এই তালিকায় ছিলেন। কিন্তু গত সোমবার তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। তার আগে গত শনিবার মৌসম তৃণমূলও ত্যাগ করেছেন। 
লোকসভা হোক বা রাজ্যসভা, আগামী ২ এপ্রিলের পর বাংলা থেকে সিপিএমের আর কোনও প্রতিনিধি থাকছেন না সংসদে। কারণ,  বিধায়করা ভোট দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত করেন। বাংলায় যেহেতু সিপিএমের কোনও বিধায়ক নেই, তাই রাজ্যসভায় কোনও প্রতিনিধিও তারা পাঠাতে পারবে না। এখানেই চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে সিপিএমকে খোঁচা দিয়েছে তৃণমূল। কয়েক মাস আগে ২৬ হাজারের চাকরি বাতিলের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বিকাশবাবু কেস করেছিলেন। তার জন্যই এতগুলো লোকের চাকরি গেল। উনি তো বিশ্বের বৃহত্তম আইনজীবী। কেন যে নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন না।’ এই প্রেক্ষিতে জোড়াফুল শিবিরের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘সিপিএমের শুধু নেতিবাচক রাজনীতি। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা। নিজেদের ভোট বিজেপিকে সঁপে দেওয়া। আর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কর্মপ্রার্থীদের চাকরি আটকে, তাঁদের চোখের জলে রাজনীতি করেছিলেন। উনি ২৬ হাজার লোকের চাকরি খেয়েছিলেন। এবার তাঁরই চাকরি চলে যাচ্ছে।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএম বিরল কৃতিত্ব অর্জন করতে চলেছে। হারের হ্যাটট্রিক!’ পালয়া বক্তব্য দিয়েছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, ‘আমাদের বিধায়ক নেই বলেই রাজ্যসভায় প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ নেই। এর মধ্যে আনন্দ, দুঃখ, উল্লাসের অবকাশ নেই। আর রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়াকে আমি চাকরি বলে মনে করি না।’
যেহেতু সিপিএমের কোনও বিধায়ক নেই, তাই রাজ্যসভা ভোটে ওই আসনটিতে এবার বিজেপি প্রার্থী দেবে। বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে বিজেপি রাজ্যসভায় একজন প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে। গেরুয়া শিবির থেকে রাজ্যসভায় কাকে পাঠানো হয়, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সুব্রত বক্সি, সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কার কার সাংসদ পদ পুনর্নবীকরণ হয়, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ