অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’! আইনি ভয় দেখিয়ে প্রতারণার নয়া ফাঁদ। তাতে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। এমনকী, ডিজিটালি অ্যারেস্ট হয়ে ভয়ে ‘গৃহবন্দি’ হয়ে থাকছেন কেউ কেউ। এই প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করছে বিধাননগর কমিশনারেট। কমিশনারেটের পডকাস্ট ‘কপ টক’-এ নিয়ে ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। তাতে পুলিস থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলে কিছু নেই। এটি প্রতারণারই ফাঁদ। তাই এই ধরনের অ্যারেস্ট নিয়ে আচমকা কোনও ভিডিও কল পেলে সচেতন হন। কোনওভাবেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দেবেন না।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকমাস ধরেই এই ডিজিটাল অ্যারেস্টের মাধ্যমে প্রতারণা বাড়ছে। কীভাবে ঘটছে এই প্রতারণা? পুলিস ও সাইবার বিশেজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা পুলিস অফিসারের পোশাক পরে বিভিন্ন লোকজনকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করছে। ফোন করেই বিশেষ একটি অপরাধের কথা বলছে। তারপরই তারা জানাচ্ছে, এই অপরাধের জন্য আপনাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হল। আপনাকে বাড়িতেই থাকতে হবে। কোথাও বের হতে পারবেন না। আসল পুলিস ভেবে অনেকে বিশ্বাস করে ফেলছেন। নিজের বাড়িতে গৃহবন্দিও হয়ে থাকছেন। এরপর মামলা মেটানোর জন্য ভুয়ো পুলিস অফিসাররা টাকার রফা করছে। বহু মানুষ টাকা দিয়েও দিচ্ছেন। তারপরই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তাঁরা।
পুলিস জানিয়েছে, প্রতারকরা ভিডিও কল করেই বেশ কয়েকটি অপরাধের অভিযোগ তুলছে। যেমন, আপনার আধারকার্ড ব্যবহার করে প্রচুর সিমকার্ড তোলা হয়েছে। ওই সিম দিয়ে আর্থিক তছরুপ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আপনার নামে একটি পার্সেল এসেছে। কাস্টমস অফিসে তা আটক করা হয়েছে। কারণ, তাতে বেআইনি জিনিসপত্র রয়েছে। তৃতীয়ত, আপনার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছেন। এছাড়াও, পুরনো মালপত্র বিক্রি, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে অভিযোগ রয়েছে বলেও ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকী, কাউকে কাউকে ওই এজেন্সির নামে বানানো ভুয়ো নথিপত্রও দেখানো হচ্ছে। ফলে, অনেকেই বিশ্বাস করে ফেলছে। গ্রেপ্তারি এড়ানোর জন্য অনেকেই টাকা দিয়ে রফা করতে চাইছেন। তাতেই লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। কিছুদিন সল্টলেকের এক ব্যক্তি ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়ে পৌনে ২ কোটি টাকা দিয়ে ফেলেছিলেন। লেকটাউনের এক বৃদ্ধা ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়ে বাড়িতে দু’দিন গৃহবন্দি হয়েছিলেন। তারপর ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে ফেলেন।
কমিশনারেটের দাবি, ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে ভয় পাবেন না। এটি প্রতারকদের চক্র। সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে পুলিসের সহায়তা নিন।