


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: এখন উত্তরবঙ্গে পাঁচটি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। উত্তরবঙ্গ, রায়গঞ্জ, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও মালদহ। পাহাড়ে রয়েছে দু’টি জেলা হাসপাতাল। দার্জিলিং এবং কালিম্পং। সব মিলিয়ে কয়েক হাজার বেড থাকলেও বড়সড় বিপর্যয়, পথ দুর্ঘটনা সামলানোর মতো সুনির্দিষ্ট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বেড নেই একটিও। মাত্র একটি ট্রমা কেয়ার ইউনিট রয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। সেখানে শয্যা রয়েছে মাত্র ২০টি। কালিম্পংয়ের রাম্বির কাছে একটি ট্রমা সেন্টার হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পাহাড় এবং লাগোয়া সমতলের জেলাগুলিতে সাম্প্রতিক ধস ও বন্যার জেরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, প্রতিবেশী একাধিক রাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ সীমানা এবং দুর্গম পবর্তাঞ্চল সত্ত্বেও কেন ট্রমা কেয়ার বা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের রোড ম্যাপ নেই স্বাস্থ্যদপ্তরের হাতে। শুধু সেনা হাসপাতালই নয়, এক্ষেত্রে মেডিকেল কলেজগুলিকেও এই ধরনের বিপর্যয় পরিস্থিতি সামলানোর উপযুক্ত হওয়া
উচিত। শুধু তাই নয়, লক্ষ লক্ষ পর্যটকদের ভালোবাসার পাহাড়ে ছোটো-বড়ো পথ দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় জখমদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যও প্রশিক্ষিত টিম ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।
রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশ জানাচ্ছে, পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও পাহাড়ে এয়ারলিফট করে উত্তরবঙ্গে মেডিকেল কলেজে নামানোর মতো কোনও হেলিপ্যাড আজও তৈরি হয়নি। সব মিলিয়ে দার্জিলিং জেলা হাসপাতাল এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজকে কেন্দ্র করে পাহাড় এবং সমতলে বিপর্যয় মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক থাকা উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ নয়, রাখা উচিত দার্জিলিং জেলা হাসপাতালকে। কারণ, পাহাড়ে ধস বা বিপর্যয় হলে অধিকাংশ রাস্তাই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন সমতল এলাকার কোনও গুরুতর জখমকে সড়কপথে নিয়ে যাওয়ার অবস্থাই থাকে না। হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে হবে, অথবা নিয়ে যেতে হবে পরিকাঠামোযুক্ত পাহাড়েরই কোনও বড় সরকারি হাসপাতালে। যেমন, সাম্প্রতিক তুমুল বৃষ্টি ও ধসের জেরে জখমদের একজনও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ভর্তি নেই। অধিকাংশই দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে ভর্তি। তাই পাহাড়ের দু’টি জেলা হাসপাতালকে সবদিক থেকে প্রস্তুত রাখা আশু জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ সীমানা রয়েছে চীনের। কখনও যুদ্ধ বাধলে আহতদের ট্রমা সামলানোর জন্য প্রয়োজন অত্যাধুনিক ট্রমা কেয়ার এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাপনা। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের এক কর্তা বলেন, ‘এখন আমাদের ট্রমা সেন্টারটি লেভেল ২ পর্যায়ের। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি সেটিকে লেভেল ৩-তে নিয়ে যাওয়ার।’ রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।’