সংবাদদাতা, বারুইপুর: ভয়ানক রয়্যাল বেঙ্গলটিকে নিয়ে কোনও রিস্ক নিল না বনদপ্তর। যাতে সে সহজে ফিরে আসতে না পারে তার জন্য কুলতলি থেকে প্রায় ৪৫ কিমি দূরে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের চামটা চার নম্বর জঙ্গলে ছাড়া হল তাকে।
সংবাদদাতা, বারুইপুর: ভয়ানক রয়্যাল বেঙ্গলটিকে নিয়ে কোনও রিস্ক নিল না বনদপ্তর। যাতে সে সহজে ফিরে আসতে না পারে তার জন্য কুলতলি থেকে প্রায় ৪৫ কিমি দূরে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের চামটা চার নম্বর জঙ্গলে ছাড়া হল তাকে।
কুলতলির দেউলবাড়ি পঞ্চায়েতের দক্ষিণ দুর্গাপুরের কুমিরপাড়া গ্রামে শনিবার সকালের দিকে ঢুকেছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটি। একটি জঙ্গলের মতো বাগানে দিনভর লুকিয়েছিল। তাকে ধরতে বাগানে ছাগলের টোপ দিয়ে দু’টি খাঁচা পেতেছিল বনদপ্তর। তার মধ্যে একটি টোপ গেলে বাঘ। খাঁচায় আটকে পড়ে মাঝরাত নাগাদ। রাতভর পাহারায় ছিলেন বনকর্মীরা। রাত তিনটের সময় গর্জনে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীদের। জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল বাগানটি। তা সরিয়ে কর্মীরা ঢোকেন। দেখতে পান, খাঁচায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাঘটি। মোবাইলের ফ্ল্যাশের আলো জ্বেলে কালো প্লাস্টিক দিয়ে খাঁচা ঢাকতে গিয়েছিলেন কয়েকজন বনকর্মী। বাঘটি বন্দি অবস্থায় এতটাই ভয়ঙ্কর আচরণ করছিল যে প্লাস্টিক ঢাকতে পর্যন্ত ভয় পাচ্ছিলেন কর্মীরা। আলো চোখে পড়তেই খাঁচার ভিতরে ঝাঁপ দেয় জন্তুটি।
প্লাস্টিক ঢেকে অন্ধকার করার পর একটু শান্ত হয়। তারপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা অতিরিক্ত বন বিভাগীয় আধিকারিক পার্থ মুখোপাধ্যায় ও জনমেজয় পালের তত্ত্বাবধানে বনকর্মী ও টাইগার কুইক রেসপন্স টিমের কর্মীরা খাঁচাবন্দি অবস্থায় ভ্যানে করে বাঘটিকে নিয়ে যান চার কিলোমিটার দূরে কাটামারি ঘাটে। বাঘ দেখতে জড়ো হন এলাকার বাসিন্দারা। এমনকি উত্তর বারাসত থেকেও গাড়ি নিয়ে একদল মানুষ চলে আসেন। সেখানে শারীরিক পরীক্ষা হয় প্রাণীটির। তিন কিলোর মতো মাংস খেতে দেওয়া হয়। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় বনি ক্যাম্পে। সেখানে আর এক দফা শারীরিক পরীক্ষা। এরপরে চামটা জঙ্গলের দিকে রওনা। নদীতে ছাড়া হয় বাঘটিকে। প্রাণীটির আনুমানিক বয়স সাত বছর। প্রায় ন’ফুট লম্বা। জলে নামার পর চোখের পলকে সাঁতরে পাড়ে ওঠে বাঘটি। তারপর তিনচারটি লাফ দিয়ে জঙ্গলে গাছের আড়ালে অদৃশ্য। আর দেখা মেলেনি। এই খবরে কুমিরপাড়া গ্রামে শান্তি
ফেরে। ছবি বনদপ্তরের সৌজন্যে