নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রতি মাসে পুরসভা ও ব্লক ভিত্তিক বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্যদপ্তর। এই বৈঠকের কার্যবিবরণী ও কারা কারা উপস্থিত ছিলেন, তা দপ্তরের পোর্টালে আপলোড করতে বলা হয়েছে। বৈঠকের রিপোর্ট কী ফর্ম্যাটে আপলোড করতে হবে, তাও জেলা খাদ্য নিয়ামকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরসভা ও ব্লকভিত্তিক মাসিক বৈঠকগুলি নিয়মিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মহকুমা খাদ্য নিয়ামকদের। জুলাই মাস থেকে বৈঠকের তথ্য পোর্টালে তুলে দিতে বলা হয়েছে।
মাসিক বৈঠকে রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকবেন। গ্রাহক, ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটর, জনপ্রতিনিধি, খাদ্যদপ্তর ও প্রশাসনের স্থানীয় পর্যায়ের আধিকারিকরা যোগ দেবেন। রেশন ব্যবস্থা পরিচালনায় সমস্যা ও অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হবে। এসব যাতে খাদ্যদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নজরে আসে, তার জন্যই কার্যবিবরণী পোর্টালে তুলতে বলা হয়েছে। সমস্যাগুলি জেনে নিয়ে তা মেটানোর জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে খাদ্যদপ্তর। আগেই অবশ্য রেশন গ্রাহক সহ অন্যদের সমস্যা সমাধানে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে খাদ্যদপ্তর। তার মধ্যে একটি হল, দপ্তরের সব পর্যায়ের আধিকারিককে শনি ও রবিবার, ছুটির দিনে রেশন দোকান পরিদর্শন করে রিপোর্ট পেশ করতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে বছরের দু’দিন ‘জন সম্পর্ক অভিযান’ চালাচ্ছে খাদ্যদপ্তর। ওই দু’দিন দপ্তরের সব কর্মীকে রেশন দোকানে গিয়ে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে তার রিপোর্ট পেশ করতে হয় অফিসে।
সব মিলিয়ে খাদ্যদপ্তর এখন রেশন ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে নিয়মিত ‘ফিড ব্যাক’ পেতে চাইছে। রেশনের খাদ্যসামগ্রীর ওজন, গুণগত মান প্রভৃতি নিয়েই মূলত গ্রাহকদের অভিযাগ থাকে। নির্দিষ্ট ওজনের খাদ্য যাতে গ্রাহকরা পান, তা নিশ্চিত করতেও খাদ্যদপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছে। আটার গুণগত মান নিয়ে বেশি অভিযোগ ওঠে। তাই আটা নিয়মিত পরীক্ষা করে রিপোর্ট অনলাইনে আপলোড করার ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে খারাপ মানের চাল এখনও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু খাদ্য দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। এই বিষয়টি পুরসভা-ব্লক পর্যায়ের বৈঠকেও তোলা হবে বলে তিনি জানান।