প্রীতেশ বসু, কলকাতা; বাংলাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের টাকা না দেওয়ায় দিন তিনেক আগেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের ধারাবাহিক আর্থিক বঞ্চনা নিয়ে অনেকদিন থেকেই সোচ্চার তিনি। মমতার এই লাগাতার চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হল মোদি সরকার। স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ডে (এসডিআরএফ) বাংলার প্রাপ্য ৪৯১ কোটি টাকা ছেড়ে দিল তারা। যদিও বিজেপি শাসিত গুজরাতকে একসঙ্গে তিন দফার টাকা দেওয়া হয়েছে। এই খাতে তারা পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে বাংলাকে বঞ্চনার ইস্যুতে সুর চড়িয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘জনগণের ক্ষতির কথা ওরা ভাবে না। অসম বন্যাত্রাণের টাকা পায়, কিন্তু বাংলা পায় না।’ ডিভিসি’র জলে কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি এই সময় অকারণে রাজনীতি না করে রাজ্য প্রশাসনকে সহযোগিতার আবেদন করেন কেন্দ্রের কাছে। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসে দিল্লি। তারপরই পশ্চিমবঙ্গের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়া হল।
এই মর্মে যে বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক জারি করেছে, সেখানেই গুজরাতকেও এই খাতে টাকা দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ রয়েছে। জানা যাচ্ছে, গুজরাতকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির টাকা (৬৪৩ কোটি) ছাড়াও ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের দু’টি কিস্তির টাকা (১২১০ কোটি টাকা) দেওয়া হয়েছে। কেন এক বছর পরে ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের টাকা দেওয়া হল গুজরাতকে? সূত্রের খবর, এই খাতে ৭৫ শতাংশ টাকা দেয় কেন্দ্র। তাদের থেকে সঠিক সময়ে ওই টাকা পেতে গেলে বিগত বছরের সমস্ত হিসেব জমা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে। এমনকী, কেন্দ্রের টাকা ব্যাঙ্কে থাকাকালীন যে সুদ হয়, তাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠাতে হয় কেন্দ্রের কোষাগারে। এসব শর্ত মেনে চললে তবেই মেলে টাকা। পশ্চিমবঙ্গ সব শর্ত পূরণ করায় টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা ছিল না। কিন্তু গুজরাত সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হিসেব না দিতে পারার কারণেই গত আর্থিক বছরের টাকা পায়নি।
এদিকে, ত্রাণ হিসেবে জেলায় জেলায় চাল পাঠানো নিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। ১৪ জুলাইয়ের এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের। নিয়ম হল, বিপর্যয় পরিস্থিতিতে বিতরণের জন্য চালের প্রয়োজন পড়লে তা জানাতে হয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে। অথচ, সম্প্রতি দু’টি জেলা সরাসরি সেই চিঠি রাজ্যের খাদ্যদপ্তরকে পাঠিয়ে দিয়েছিল বলেই সূত্রের খবর। তারপরেই নির্দেশিকা পাঠিয়ে নিয়ম মেনে কাজ করার কথা জেলা প্রশাসনগুলিকে মনে করিয়ে দিল নবান্ন।