Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জেলে বসেই রাজত্ব সামলাচ্ছেন সন্দেশখালির ‘স্বঘোষিত’ বাদশা

সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের ঠিকানা এখন প্রেসিডেন্সি জেলের ৪২ নম্বর ওয়ার্ড।  এখানে বসেই সরবেড়িয়া বাজারে নিজের মাছের কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন।

জেলে বসেই রাজত্ব সামলাচ্ছেন সন্দেশখালির ‘স্বঘোষিত’ বাদশা
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের ঠিকানা এখন প্রেসিডেন্সি জেলের ৪২ নম্বর ওয়ার্ড।  এখানে বসেই সরবেড়িয়া বাজারে নিজের মাছের কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এলাকায় শাহজাহান বিরোধী বলে পরিচিত লোকজনকে কীভাবে টাইট দিতে হবে, তার নির্দেশ আসছে জেল থেকে। কেউ দাবিমতো টাকা না দিলে ওয়ার্ড থেকেই যাচ্ছে হুমকি ফোন।  গোটা জেলের সকলেই তাঁর কথায় ওঠাবসা করছে, এমনটাই অভিযোগ। সন্দেশখালির স্বঘোষিত ‘বাঘ’ এখন জেলের ভিতরে ‘ডন’ হয়ে উঠেছেন। এমনই অভিযোগ নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। বাইরে থেকে আসা খাবার থেকে মোবাইল ব্যবহার সহ সমস্ত ধরনের সুযোগ সুবিধা তিনি ভোগ করছেন বলে জেনেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যদিও কারা কর্তাদের দাবি, আর পাঁচটা অভিযুক্তের মতোই সংশোধনাগারে রয়েছেন শাহাজাহান। বাড়তি কোনও সুযোগ সুবিধা তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না।

Advertisement

একদা সন্দেশখালির ত্রাস ইডি-সিবিআইয়ের মামলায় বছর খানেকের বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে চলতি বছরেই জেল থেকে ফোন করে সরবেড়িয়া বাজারের জমির মালিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ভেড়ি মালিকদের সিংহভাগের অভিযোগ, জেলে বসে তাঁদের ভয় দেখাচ্ছেন শাহজাহান। বাধ্য করছেন সমস্ত মাল তাঁর আড়তে ফেলতে। জেলের গারদে বসেই মাছের দর ঠিক করে দিচ্ছেন। কত টাকার বেচাকেনা হল, জেলে বসেই প্রতিদিনের হিসেব নিচ্ছেন। রাজ্য পুলিশের অফিসাররা খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারছেন, জেলকে ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বানিয়ে ফেলেছেন শাহাজাহান। সংশোধনাগারের ভিতর তিনি রাজকীয় স্টাইলে চলাফেরা করেন। তাঁর ফাইফরমাস খাটা, হাত-পা টিপে দেওয়ার জন্য চার বিচারাধীন বন্দি রয়েছে। সন্দেশখালির বাদশার ওয়ার্ড যেন পাঁচতারা হোটেল। আরাম কেদারা. খাট, বালিশ টেবিল ফ্যান কোনটাই বাদ নেই বলে জানা যাচ্ছে।  বেলা হলেই কার কী সমস্যা শুনতে বসেন জেলের মধ্যেই। সেই অনুযায়ী শাসানি, ধমক-চমক দেন বলে অভিযোগ। বিচারাধীন বন্দিদের সাক্ষীদের জেল বসে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জেলের ভিতরে কে কী কাজ করবে, তাও শাহজাহান ঠিক করে দিচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। 
জেলের কারারক্ষীদের একাংশের দাবি, পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ছোট একটি মোবাইল কিনে সেটি সর্বক্ষণ ব্যবহার করছেন শাহজাহান। সন্দেশখালি থেকে তাঁর শাগরেদররাই এসে মাংস, মাস দিয়ে যায় জেলের নির্দিষ্ট  ওয়ার্ডেনের কাছে। ‘মেডিকেল চোখা’তে (শুধুমাত্র অসুস্থ বন্দিদের জন্য নির্ধারিত রান্নাঘর) তাঁর জন্য আলাদা করে খাবার রান্না হচ্ছে। তবে এই সুযোগ নিতে প্রতি মাসে ভালো দক্ষিণা গুণতে হচ্ছে শাহজাহানকে। ইডির মামলায় সাক্ষীকে জেলে বসে খুনের ছকের অভিযোগ ওঠার পর  শাহজাহানের কাজকর্ম নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও  পুলিশ। তবে জেল কর্তাদের দাবি, অন্য বন্দিদের মতোই আছেন শাহজাহান। বাড়তি কোনওকিছুই তিনি পাচ্ছেন না। 

সম্পর্কিত সংবাদ