


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জায়গায় জায়গায় রাস্তা থেকে উঠে গিয়েছে কংক্রিটের ব্লক। আবার কংক্রিটের তৈরি বসার জায়গা থেকে খসে পড়ছে টালি। কোথাও বিকল হয়ে বেঁকে গিয়েছে ত্রিফলা আলো, কোথাও ভেঙে পড়ে রয়েছে লোহার রেলিং। হাওড়া শহরের ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন রিং রোডের বর্তমান চিত্র এটাই। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে কার্যত বেহাল হয়ে পড়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। কংক্রিটের আস্তরণে গাছের গোড়া ঢেকে দেওয়ায় বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে রিং রোডের দু’পাশে থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বড়ো গাছ। পরিকল্পনাহীন চিন্তাভাবনার জন্যই গাছগুলির এই দশা।
২০১৪-’১৫ সাল নাগাদ ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন রিং রোডকে ঘিরে সৌন্দর্যায়নের একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছিল হাওড়া পুরসভা। গোটা রাস্তায় কংক্রিটের ব্লক বসানো হয়, পথের ধারে তৈরি করা হয় বসার বেঞ্চ। রেলিং দিয়ে ঘিরে ফুল গাছ লাগানোর জন্য বক্স তৈরি হয় এবং দু’পাশে বসানো হয় ত্রিফলা আলো। পরবর্তীকালে ২০২১ সাল নাগাদ ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের পাশে প্রায় ৫৩ একর জমিতে হিডকোর উদ্যোগে ‘খেল নগরী’ বা ‘স্পোর্টস সিটি’ গড়ে ওঠে। ওই এলাকার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় হাওড়া পুরসভাকে। অভিযোগ, করোনাকাল থেকে একাধিকবার ঝড়ের দাপটে রিং রোডের পাশে থাকা বহু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক গাছের গুঁড়ি ভেঙে পড়ে। সেখান থেকেই শুরু অবনতির। সংস্কারের অভাবে একে একে নষ্ট হতে থাকে লোহার রেলিং, কংক্রিটের বেঞ্চ, ফুলের বাক্স ও ত্রিফলা আলোর ব্যবস্থা।
বর্তমানে এই রিং রোড প্রাতর্ভ্রমণকারীদের ভরসার জায়গা। তাঁদের অভিযোগ, হাঁটাহাঁটির পর বসার মতো কোনো জায়গা নেই। টালি খসে গিয়ে বেঞ্চগুলির অবস্থা শোচনীয়। রাস্তা পরিষ্কার থাকলেও আশপাশে জমে থাকা আবর্জনায় সবুজে ঘেরা এই পথ এখন দৃশ্যদূষণের শিকার। সন্ধ্যা নামলেই বিকল বাতির কারণে রিং রোড ডুবে যায় অন্ধকারে। অথচ সন্ধ্যার পর এই এলাকাই শহরের জনপ্রিয় ফুড জোনে পরিণত হয়। অস্থায়ী ফুড স্টলগুলিতে জমে ওঠে ভিড় ও আড্ডা। তাঁদেরও দাবি, অন্তত পুরানো আলোগুলি দ্রুত সারানো হোক। রিং রোডের এক প্রান্তে সুলভ শৌচালয় থাকলেও অধিকাংশ দিন তা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষজন। হাওড়া পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, গত বছরের জুন মাস নাগাদ রিং রোড ও স্পোর্টস সিটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হিডকোর হাতে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরসভার দায়িত্বে রয়েছে শুধু ডুমুরজলা স্টেডিয়াম। হিডকো জানিয়েছে, ভেঙে যাওয়া ফুলের বাক্স, ফুটপাতের পেভার ব্লক মেরামতির জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করে দু’মাসের মধ্যেই সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।