নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল কয়েক কিলোমিটার রাস্তা। বারবার সংস্কারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দুয়ারে গ্রামবাসীরা কড়া নাড়লেও কোনও সুরাহা হয়নি। কেবলই মিলেছে প্রতিশ্রুতি। এই পরিস্থিতিতে এবার খোদ বাসিন্দারাই কোমর বেঁধে রাস্তা সংস্কারের কাজে ঝাঁপালেন। চাঁদা তুলে অর্থ সংগ্রহ করে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হল। ঘটনাটি পুরুলিয়া জেলার আড়ষা ব্লকের। অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা বহুদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও বিডিও গোপাল সরকার বলেন, নির্দিষ্ট ওই রাস্তা সংস্কারের অনুমোদন মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়াও ব্লকের আরও ১৩টি রাস্তা সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আড়ষা ও জয়পুর ব্লকের সংযোগকারী হিসেবে ওই রাস্তার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আড়ষা পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গা খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। বর্ষার মরশুমে ওই রাস্তার হাল আরও খারাপ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তা সংস্কারের আর্জি জানিয়ে গ্রামবাসীরা বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কর্তাদের দরজায় কড়া নেড়েছেন। প্রতিবার আশ্বাস মিললেও এখনও হয়নি সমস্যার সমাধান। রাস্তার কাজ শুরু না হওয়ায় বাসিন্দাদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। অবশেষে আড়ষা পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা একজোট হয়ে চার কিলোমিটার রাস্তার বিস্তীর্ণ খারাপ অংশ সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো তাঁরা চাঁদা সংগ্রহ করেন। সেই অর্থেই মোরাম দিয়ে রাস্তার হাল ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিগত তিনদিন ধরে চলছে সেই কাজ।
স্থানীয় রাখাল মাহাত বলেন, রাস্তার বিভিন্ন অংশ খানাখন্দে ভরেছিল। গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বর্ষার মরশুমে রাস্তার হাল আরও বেহাল হয়ে উঠে। আমরা একাধিকবার রাস্তা সংস্কারের আর্জি জানিয়েছিলাম। তবে কাজ শুরু না হওয়ায় তুম্বা ও খেদাডি গ্রামের বাসিন্দা একজোট হয়ে চাঁদা তুলে রাস্তার সংস্কার করছি।
দিব্যেন্দু মাহাত বলেন, রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আর্জি জানানো হলেও শুধুই আশ্বাস মেলে। বাস্তবে রাস্তার কাজ শুরুর কোনও উদ্যোগ আমাদের নজরে আসেনি। আমাদের চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোটরা সমস্যায় পড়ছে। ফলে চাঁদা তুলে রাস্তা সংস্কার করা ছাড়া বিকল্প কোনও পথ ছিল না।