নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্রিগেড সমাবেশ। তাই রবিবার হলেও শহরের রাজপথে বাড়তি পুলিস। ধর্মতলা চত্বরে তখন কাতারে কাতারে বাম কর্মী-সমর্থকরা মিছিল করে যাচ্ছেন মূল মঞ্চের উদ্দেশে। গান্ধীমূর্তির সামনে ডিউটি করছিলেন কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক বিভাগের এক ইনসপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। লাল পতাকাধারীরা তাঁর পাশ দিয়ে যেতেই উঠল ‘উস্কানি’ দেওয়া স্লোগান—‘পুলিস তুমি উর্দি ছাড়ো’। কিন্তু, কর্তব্যে অবিচল সরকারি অফিসার। আকাশবাণীগামী বাস, গাড়ি, বাইক আটকে রেখে সেই মিছিলকে আগে গন্তব্যের দিকে সুষ্ঠুভাবে পার করে দিলেন সেই ইনসপেক্টর।
ছবিটা শুধু গান্ধীমূর্তির সামনে নয়। ধর্মতলা থেকে পার্কস্ট্রিট, মেয়ো রোড থেকে রেড রোড, হসপিটাল রোড থেকে কুইনস ওয়ে—সর্বত্র। বামেদের সমাবেশ উপলক্ষ্যে ব্রিগেডে আসা কাতারে কাতারে কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দায়িত্বসহকারে সামলাল কলকাতা পুলিস। কার্যত বলা যায় লাল পার্টির ‘পুলিস তুমি উর্দি ছাড়ো’ স্লোগানের ‘নিশানায়’ থাকা পুলিসই উতরে দিল ব্রিগেড সমাবেশ। এদিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাস্তায় অতিরিক্ত আড়াই হাজার পুলিস মোতায়েন করে লালবাজার। নিরাপত্তার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাও সচল রাখার দায়িত্ব ছিল তাঁদের উপর। সকাল ৯টা থেকেই পোস্টিং হয়ে যায় পুলিসের। ট্রাফিক সূত্রে খবর, সকাল থেকেই চাপ ছিল জেলা থেকে আসা বাস, গাড়ি পার্কিয়ের। ফোর্ট উইলিয়ামের উল্টোদিকের ময়দানে সারি দিয়ে পার্কিং করা হয়। এদিন শহরে সভামুখী প্রায় তিন হাজার যানবাহন প্রবেশ করে বলে পুলিস সূত্রের খবর। শহরে রাস্তায় বিপুল জনসমাগমে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে-কথা মাথায় রেখেও বিশেষ ব্যবস্থা করে পুলিস। গোটা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড ঘিরে দেওয়া হয় গার্ডরেল দিয়ে। তিনদিকে তিনটি পয়েন্ট খোলা রাখা হয় মিছিল প্রবেশের জন্য। প্রত্যেকটির দায়িত্বে ছিলেন একজন করে অ্যাসিস্ট্যান্ট পদমর্যাদার অফিসার। সমাবেশ শেষে ফের কর্মী-সমর্থকদের নির্দিষ্ট গাড়ির দিকে পাঠায় পুলিসই। লালবাজার সূত্রের খবর, এদিনের সমাবেশকে কেন্দ্র কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোনও দুর্ঘটনারও খবর নেই।