নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাড়িতে বলেছিল, ‘ফল ভালো হবে’। কিন্তু, র্যাঙ্ক হবে কি না, তা নিশ্চিত ছিল না সে। ফলাফল দেখতেই টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল বাড়ির সবাই। হঠাৎ, কানে ভেসে এল নিজের নাম, ‘অবন্তিকা রায়’! তারপর মিলে গেল স্কুলের নামও, ‘রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গালর্স স্কুল’! দু’চোখ দিয়ে তখন গড়িয়ে পড়ছে আনন্দের জল। বাড়িতে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। হবে নাইবা কেন? মাধ্যমিকের প্রথম ১০ মেধা তালিকায় সে’ই কলকাতার একমাত্র ছাত্রী। অষ্টম স্থান। পড়াশোনার সঙ্গে স্কুল শিখিয়েছে জীবনের আদর্শ, মূল্যবোধ। সেই আদর্শ নিয়েই অবন্তিকার পরবর্তী লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া।
বাগবাজারের রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গালর্স স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে পড়াশোনা করছে অবন্তিকা। তার বাড়ি লেকটাউনে। বাবা হেমন্তবাবু পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। মা মুনমুনদেবী গৃহবধূ। তার এক বোনও রয়েছে। পড়াশোনায় বরাবরই ভালো। তবে, অবসর কাটে গল্পের বইয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার কোনও অ্যাকাউন্ট নেই। অবন্তিকার কথায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করার মতো সময় কোথায়? পড়াশোনার বাইরে গল্পের বই আছে। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা তার প্রিয় চরিত্র। টিভিতে নাম ঘোষণার পর বাড়িতে শুভেচ্ছার বন্যা। একের পর এক ফোন। দুপুরে বাবা-মায়ের সঙ্গে অবন্তিকা বাগবাজারের রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গালর্স স্কুলে আসে।
অবন্তিকার মা বলেন, ‘ভালো ফলই আশা করেছিলাম। তবে, এতটা নয়। মেয়ে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে পড়ত। অঙ্ক, ইংরেজি ও জীবন বিজ্ঞানে ১০০ করে পেয়েছে। বাংলা, পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভূগোলে ৯৭ করে পেয়েছে। মোট প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮।’
স্কুলের ভিতরে দাঁড়িয়ে অবন্তিকা বলে, ‘টিভিতে যখন নিজের নাম শুনলাম, তখন কেঁদে ফেলেছিলাম। পরীক্ষার পরই বুঝেছিলাম, রেজাল্ট ভালো করব। তবে, প্রথম দশে থাকব বলে ভাবিনি।’ অবন্তিকা আরও বলে, ‘স্কুল থেকে নিয়মানুবর্তিতা, সততা, আদর্শ শিখেছি। পড়াশোনার বাইরে এগুলি খুবই জরুরি। আমরা ইচ্ছে, একজন ভালো ডাক্তার হওয়া। আমি এই পেশাকে খুবই সম্মান করি। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাব।’
স্কুলের সহসম্পাদক প্রজ্ঞাজিকা সোমপ্রাণা মাতাজি বলেন, ‘আমরা সকলেই খুশি। স্কুলের সব ছাত্রীকেই আমরা পড়াশোনার সঙ্গে আদর্শের পাঠ দিয়ে থাকি। যেমন—নিজের দেশকে ভালোবাসা, নিজের স্কুল, বাবা-মা, শিক্ষিকাদের সম্মান করা ইত্যাদি। ওইসঙ্গে সকলকে বলি, শুধু কেরিয়ারের পিছনে দৌড়নো নয়, প্রত্যেককে ভালো মানুষও হতে হবে।’