সংবাদদাতা, বনগাঁ: পাঁচ সন্তানের বাবা বাগদার বয়রা পঞ্চায়েতের রামনগরের বাসিন্দা আয়েব মণ্ডল। ইতিমধ্যেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তিনি জেনে যেতে পারেননি, তাঁর আরও এক ‘সন্তান’ রয়েছে। অন্তত নথি তেমনই বলছে। ভোটার তালিকা অনুযায়ী, আয়েব রকি মণ্ডলের বাবা। কিন্তু তাঁর পাঁচ সন্তানের মধ্যে কারও নাম রকি নয়। রকি আদতে বাংলাদেশি। মাঝেমধ্যে তাঁর বাড়ি আসত। নকল ভোটার কার্ড বানাতে আয়েবকেই বাবা বানিয়েছিল রকি। এরকম ঘটনা আরও আছে।
বাংলাদেশ থেকে এসে বাগদার গাঙ্গুলিয়ার কাদের মণ্ডলকে বাবা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলে কুদ্দুস মণ্ডল। পাসপোর্ট বানিয়ে সে নাকি ভিন দেশে পাড়ি দিয়েছে। বেশ কিছু দিন পর কাদের জানতে পারেন তাঁর আরও এক ‘সন্তান’ রয়েছে। চার সন্তানের বাবা তখন চক্ষু চড়কগাছ। বনগাঁর কেউটেপাড়ায় এসে বাংলাদেশি যুবক স্থানীয় তরুণীকে বিয়ে করে শ্বশুরকে বাবা সাজিয়ে ভারতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে। এমন উদাহরণ আরও আছে বলেই দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি বাগদার বাসিন্দা বিজেপি নেতা সন্তু মিস্ত্রি বিডিও এবং জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা রকি মণ্ডলের বাবা হিসেব নাম রয়েছে আয়েব মণ্ডলের। রয়েছে আধার কার্ডও। ঘটনা জানাজানি হতেই পলাতক রকি। সন্তু মিস্ত্রি বলেন, ‘ভোট ব্যাঙ্ক বাড়ানোর জন্য তৃণমূল নেতৃত্ব এভাবে বাংলাদেশিদের নকল পরিচয়পত্র তৈরি করে দিচ্ছে।’ বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘তৃণমূল এ ধরনের ভোটারদের প্রশ্রয় দেয় না।’
প্রায় ১০ বছর আগে চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসে রকি। বাগদার রামনগরে বসবাস শুরু করে। এদেশে শ্রমিকের কাজ করত সে। আয়েব মণ্ডলের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এরই ফাঁকে আয়েব মণ্ডলকে বাবা সাজিয়ে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে। পাশের গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করে সেখানেই থাকত। আয়েব মণ্ডলের বউমা আমিনা মণ্ডল বলেন, ‘শ্বশুর বেঁচে থাকতে রকি মাঝেমধ্যে আমাদের বাড়িতে আসত। কিন্তু পরিচয়পত্র তৈরি করার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
কয়েকদিন আগেই বাগী গ্রামে শাশুড়িকে মা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ উঠেছিল বাংলাদেশি এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। সে পলাতক। বনগাঁর কেউটেপাড়ায় একই ঘটনা ঘটেছিল। এক বাংলাদেশি কেউটেপাড়ার যুবতীকে বিয়ে করে। শ্বশুরকে বাবা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলে। পরে মুম্বইয়ে কাজে যায়। এভাবেই দালাল চক্রের কারসাজিতে সন্তান বেড়ে যাচ্ছে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের।