Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বকেয়া ডিএ’র ন্যূনতম প্রাপ্তি দেড় লক্ষ, অর্ধেক এমাসেই!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকেই বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু করছে রাজ্য। বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে। এখন জোরকদমে হিসাব চলছে, কার প্রাপ্য কতটা।

বকেয়া ডিএ’র ন্যূনতম প্রাপ্তি দেড় লক্ষ, অর্ধেক এমাসেই!
  • ১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকেই বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু করছে রাজ্য। বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে। এখন জোরকদমে হিসাব চলছে, কার প্রাপ্য কতটা। প্রথমে দেওয়া হবে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯’এর ডিসেম্বর পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া। তার অর্ধেক মিলবে চলতি মাসেই। আর বাকিটা সেপ্টেম্বরে। হিসাব চলছে কর্মী মহলেও। নবান্নের অন্দর মহলের অঙ্ক, পঞ্চম বেতন কমিশনের ‘স্কেল ১’-এর ৬ হাজার ৬০০ টাকার বেসিকের উপর দু’টি ইনক্রিমেন্ট যোগ করে বেসিক ধরা হচ্ছে ৭ হাজার। সেক্ষেত্রে এই স্ল্যাবে আসা প্রত্যেক আধিকারিকের এই পাঁচ বছরে বকেয়া ডিএ পাওনা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে মার্চ মাসেই তাঁরা অন্তত ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা পাবেন বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। 

Advertisement

প্রত্যেক কর্মীর মহার্ঘ ভাতা নির্ভর করে তাঁদের বেতনের বেসিকের উপর। ‘বেসিক পে’র নিরিখে একজন কর্মীর বকেয়া কত, তা ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ’র ফারাক ধরে হিসাব কষা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যদি কারও ৭ হাজার টাকা বেসিক হয়, তাঁর দশ বছরের মোট বকেয়া হবে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৮৯০ টাকা। ১০ হাজার টাকা হলে অঙ্কটা হল ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৪০ টাকা। আর ১৫ হাজারের হিসাবে ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭২০ টাকা। রাজ্যের এক আধিকারিক জানান, একইভাবে হিসাব কষছে অর্থদপ্তরও। কিন্তু, সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক কর্মীর বেসিক সহ প্রতিটি খুঁটিনাটি রাজ্যের ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা আইএফএমএসে থাকা আবশ্যিক। ২০১৬ সাল থেকে এই ব্যবস্থাপনা জোরকদমে চালু হয়েছে। ফলে তার পরের প্রতিটি বছরের তথ্য আইএফএমএসে আছে। সেই কারণে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া আগে মিটিয়ে দিতে চাইছে রাজ্য। 
কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘প্রায় ১২ লক্ষ কর্মী ও পেনশন প্রাপক উৎকণ্ঠা রয়েছেন। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ এবং বাকি ৭৫ শতাংশের অন্তত একটি কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ পূরণ হল কি না, সর্বোচ্চ আদালতে তার পর্যালোচনা হবে ১৫ এপ্রিল। ফলে আশা করব, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সহ সকলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের প্রাপ্য পেয়ে যাবেন।’ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের কনভেনর প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘রাজ্য কীভাবে বকেয়া মেটাবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে। তার ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, অর্থদপ্তর দিনরাত এক করে কাজ করছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ