Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

মন

নারীজাতির অভ্যুদয়কে আমি বড় আবশ্যকীয় বলিয়া মনে করি। কেন করি? যেহেতু এই জাতির জঠরে আমরা দশ মাস দশদিন বাস করিয়া তবে ভূমিষ্ঠ হইয়াছি, যেহেতু এই জাতির বুকের স্তন্য আমার দেহ, মন ও মস্তিষ্ককে পুষ্ট ও বিকশিত করিয়াছে।

মন
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নারীজাতির অভ্যুদয়কে আমি বড় আবশ্যকীয় বলিয়া মনে করি। কেন করি? যেহেতু এই জাতির জঠরে আমরা দশ মাস দশদিন বাস করিয়া তবে ভূমিষ্ঠ হইয়াছি, যেহেতু এই জাতির বুকের স্তন্য আমার দেহ, মন ও মস্তিষ্ককে পুষ্ট ও বিকশিত করিয়াছে। তোমরাই তোমাদের অমৃতময়ো স্নেহ-দৃষ্টি দিয়া আমাদের জীবনকে চিরস্নিগ্ধ করিয়া রাখিয়াছ। এইজন্যই আমি ভারতবর্ষের অভ্যুদয়কে তোমাদের উন্নতি হইতে পৃথক্‌ করিয়া দেখিতে, বুঝিতে বা ভাবিতে পারি না। তোমাদের চক্ষে ভগবান্‌ স্বভাবতঃ যে স্নেহ-দৃষ্টি দিয়াছেন, তাহাতে প্রজ্ঞার দৃষ্টি না ফুটিলে, এইজন্যই আমার প্রাণে শান্তি আসিবার নহে।

Advertisement

কিন্তু শুধু শিক্ষাই প্রজ্ঞার দৃষ্টিকে উন্মোচিত করে না। প্রজ্ঞার দৃষ্টি খোলে সাধনের শক্তিতে। সুশিক্ষা সাধনের শক্তি বিকাশের আনুকূল্য করে এবং শিক্ষার সহিত সাধনের দ্বন্দ্ব ঘুচাইয়া দেয়। অশিক্ষিতা নারী সাধনের শক্তিকে আশ্রয় করিয়া পরমকল্যাণকে লাভ করিয়াছেন বটে এবং বিদ্যার্জ্জনরতা নারী সাধনের সংস্পর্শ বর্জ্জন করিয়াও সুশিক্ষিতা হইয়াছেন বটে, কিন্তু যে নারীর মানসী প্রতিমাকে দশভুজশালিনী-রূপে প্রত্যক্ষ করিয়া আমি ভবিষ্যৎ ভারতবর্ষের প্রসবিত্রীকে পূজা করিতেছি, সেই মহীয়সী নারীর জীবনে শিক্ষা ও সাধনের সমন্বয় চাই, সামঞ্জস্য চাই, সমভাবে উন্মেষ চাই। তাই, তোমাদের কাহাকেও শিক্ষার্জ্জননিরতা দেখিলেও ষোল আনা খুশী হই না। আবার কাহাকেও নিয়ত সাধনশীলা দেখিলেও পূর্ণ আনন্দটুকু পাই না। যিনি শিক্ষানিরতা, তিনি যদি নিজ মানসিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সাধনের দিকেও তীক্ষ্ণ, তীব্র ও একাগ্র দৃষ্টি দান করেন, তবেই প্রাণটা হরষে ভরিয়া উঠে। যিনি সাধননিরতা, তিনি যদি জীবনটাকে শিক্ষার বিভায় দীপ্ত করিতেও চেষ্টা করেন, তবে আমার আনন্দের সীমা থাকে না। আমি শিক্ষার পক্ষপাতী, কেন না, শিক্ষা নিজের বিকশিত শক্তির প্রয়োগে নৈপুণ্য দান করে। আমি সাধনের পক্ষপাতী, কেননা, সাধন অবিকশিত শক্তি-সমূহকে স্বাভাবিক ভাবে বিকশিত করে।
তুমি বর্ত্তমান বাঙ্গলার কন্যা কিন্তু ভবিষ্যৎ বাঙ্গলার জননী। তোমার সকল মহত্ত্ব, সকল কৌলিন্য তুমি বর্ত্তমান বাঙ্গলার কাছ হইতে পাইয়াছ। কিন্তু ভবিষ্যৎ বাঙ্গলা তাহার সকল মহিমা ও গরিমা তোমার কাছ হইতে পাইবে। বর্ত্তমান বঙ্গমাতার তুমি দান, কিন্তু ভবিষ্যৎ বঙ্গমাতার তুমি দাত্রী। বর্ত্তমান ভারতের, বর্ত্তমান জগতের তুমি সৃষ্টি-সুষমা, কিন্তু ভবিষ্যৎ ভারতের, ভবিষ্যৎ জগতের তুমি সুষমা-প্রসবিত্রী। বর্ত্তমান যুগের তুমি সৃষ্টি, ভবিষ্যতের তুমি স্রষ্টী। তোমার দেহের প্রতি বিন্দু রক্ত ঐ ভবিষ্যৎকে গড়িবে।
স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব প্রণীত ‘নবযুগের নারী’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ