বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি! আম আদমি সুফল না পেলেও মোদি সরকারের ভিতরে-বাইরে প্রচার চলছে জোরকদমে। রাজ্যে রাজ্যে ভোট যত এগিয়ে আসবে, এই প্রচার আরও বাড়বে। কিন্তু তারপরও কি পরিসংখ্যান বা সমীক্ষাকে অগ্রাহ্য করা যায়? সংসার খরচ, সঞ্চয়ে ঘাটতি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আয় নিয়ে উদ্বেগ। এটাই এখন নতুন ভারতের আম আদমির ভাবনার ভরকেন্দ্র। সেই উদ্বেগই প্রকাশ পেয়েছে খোদ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সমীক্ষা রিপোর্টে। দেশজুড়ে ধারাবাহিক সমীক্ষা। গ্রাম, মফস্সল ও ছোট শহরের বাসিন্দারা তাঁদের জীবনযাত্রা নিয়ে কী ভাবছেন? এটাই ছিল সমীক্ষার আধার। দেশের সব রাজ্য মিলিয়ে মোট ৯ হাজার মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়েছিল আরবিআই। পরিবার পিছু মাসে ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার বেশি রোজগার—সর্বস্তরের মানুষই ছিল আওতায়। অংশ নিয়েছিলেন গৃহবধূ, চাকরিজীবীরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই জীবনযাপনের ক্ষেত্রে চরম হতাশা প্রকাশ পেয়েছে নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত, প্রত্যেক শ্রেণির উত্তরে।
প্রশ্ন ছিল, বর্তমানে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে কী বুঝছেন? ২০২৪ সালের মার্চে ৪৬ শতাংশ দাবি করেছিলেন, পরিস্থিতি ভালো। কিন্তু গত মার্চে একই প্রশ্নে ৪১ শতাংশের বেশি নাগরিক আর্থিক স্থিতাবস্থার দিকে ভোট দেননি। আর আগামী বছর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কতটা অনুকূলে যেতে পারে? এই বিষয়েও মেরেকেটে ৬০ শতাংশ মানুষ আশাবাদী। অথচ, গত বছর ৬৩ শতাংশের বেশি নাগরিক ‘আচ্ছে দিনে’র পক্ষে আশা দেখিয়েছিলেন। অর্থাৎ বিষয়টা স্পষ্ট, সবকা বিকাশ তত্ত্বে দেশের অধিকাংশ আম আদমি ভরসা রাখতে পারছেন না। কারণ ৬০ শতাংশের বেশি মানুষই সাফ জানিয়েছেন, দেশে কাজের বাজার ভালো না। আর জিনিসপত্রের দাম? ৯৫ শতাংশই একবাক্যে জানিয়েছেন, দাম বেড়েছে যথেষ্ট। ৮৯ শতাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এক বছর পর নিত্যপণ্যের দাম কমা দূরঅস্ত, বরং আরও বাড়বে। ৯১ শতাংশ মানুষ গত মার্চে করা এই সমীক্ষায় জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধির জন্য তাঁদের সংসার চালানোর বাজেট বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। যেসব জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তার সবই কি সংসারের জন্য দরকারি? ৯০ শতাংশ দাবি করেছেন, যে পণ্যগুলি সবচেয়ে জরুরি, সেগুলিরই দাম বেড়েছে। ৯১ শতাংশের আশঙ্কা, এক বছর পর সেই দর আরও চড়বে। ৫৮ শতাংশ মানুষের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়, এমন জিনিসের দামও অনেকগুণ বেড়েছে। এখানেই শেষ নয়। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে কিন্তু উপার্জন সামঞ্জস্য রাখেনি। মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষের বলেছেন, আয় বেড়েছে। ৪৫ শতাংশের জবাব, রোজগার একটুও বাড়েনি। বাকি ৩০ শতাংশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের উপার্জন কমে গিয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তাদের রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়েছে, করোনা পরবর্তী সময়ে গ্রামীণ ও আধা শহুরে অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই মেঘ কিছুটা কাটে। কিন্তু ২০২৪ সালের সঙ্গে তুলনা করলে কাজের বাজার হোক বা উপার্জন— বহু ক্ষেত্রেই সেই আস্থা ফের কমতে শুরু করেছে।