নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গরমে নাজেহাল মুর্শিদাবাদবাসী। মঙ্গলবার বেলা বাড়তেই রাস্তাঘাট শুনশান হয়ে যায়। বাজারেও ভিড় কমতে থাকে। খাঁ-খাঁ দুপুরে তপ্ত হওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয় পথচারীদের। বাতাসে আপেক্ষিক আদ্রতা অত্যন্ত বেশি থাকায় গলদঘর্ম অবস্থা সকলের। রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিসকর্মীরা, বারবার চোখে মুখে জল ছিটিয়েও স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। এদিন বহরমপুর শহরের তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মাঠে কাজ করতে গিয়েও চাষিদের অবস্থা বেশ শোচনীয়।
বহরমপুরের বাসিন্দা রঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, গরম পড়তেই সকালের দিকে বাজারে যাচ্ছি। তবে এদিন ১০টায় বাজার থেকে ফেরার সময় নাজেহাল অবস্থা হয়। ঘামে ভিজে গিয়েছে পুরো শরীর। চোখ মুখ জ্বালা করছিল। হরিহরপাড়ার চাষি মন্টু দাস বলেন, এখন সকালেই জমির কাজ সেরে নিচ্ছি। তবে এদিন পাট জমিতে ঘাস নিরানোর কাজ করতে সাড়ে ১০টা বেজে যায়। ওই সময় রোদের যা তেজ ছিল, তাতে মাথা ঘুরতে শুরু করে। গাছতলায় বসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে তারপর বাড়ি ফিরেছি। বহরমপুরে মোহনাস্ট্যান্ডে বাসে বসে থাকা এক যাত্রী বলেন, অফিসে যাওয়ার আগেই বাসে বসে পুরো শরীর ভিজে যাচ্ছে। এই আবহাওয়ায় কিছুতেই সুস্থ থাকা যাচ্ছে না। ছাতা সঙ্গে নিয়েছি। কিন্তু, এই তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা।
স্বর্ণময়ী বাজারের ফল বিক্রেতা আনন্দ কর্মকার বলেন, যা গরম পড়ছে তাতে ৯টা সাড়ে ৯টার পর থেকেই বাজারে লোকজন কমে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে একেবারেই লোক থাকছে না। ফলেরও বিক্রি নেই। তবে সন্ধ্যার দিকে বাজারে কিছুটা লোক আসছে।
ডোমকলের বাসিন্দা মফিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার বাইক চালাতে হয়। এই গরমে হেলমেট পরে বাইক চালাতে পারছি না। মাথা ও মুখ দিয়ে ঘাম গড়িয়ে চোখে ঢুকে যাওয়ায় জ্বালা করছে। রাস্তায় দেখতে সমস্যা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা অনেক বেশি। বহরমপুর সদর, লালবাগ, কান্দি ও ডোমকল মহকুমাজুড়ে যখন তীব্র দাবদাহে নাজেহাল মানুষ, ঠিক তখনই জঙ্গিপুর মহকুমার বেশকিছু জায়গায় এদিন বিকেলের দিকে বৃষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টিতে স্বস্তি পান জঙ্গিপুরবাসী। জঙ্গিপুরের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই কিছুটা আক্ষেপ করছিলেন বহরমপুরবাসী। তবে বিকেলের দিকে বহরমপুর সদর সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ভিজলেও গরম সেভাবে কমেনি। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম থানার নগরগ্রামের স্বস্তির বৃষ্টি নামে। সঙ্গে হালকা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত মণ্ডল বলেন, শিলাবৃষ্টিতে আমের ক্ষতি হবে। তবে যা অসহ্য গরম পড়েছিল, তাতে বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে। -নিজস্ব চিত্র