Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১২টায় নিভল মণ্ডপের আলো ভোর পর্যন্ত রাস্তায় মানুষের ভিড়, বারাসত-মধ্যমগ্রামে শেষ হল কালীপুজো

বৃহস্পতিবার রাত বারোটায় মণ্ডপের আলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ ছিল পুলিশের। সেই অনুযায়ী নিভল প্যান্ডেলের আলো

১২টায় নিভল মণ্ডপের আলো ভোর পর্যন্ত রাস্তায় মানুষের ভিড়, বারাসত-মধ্যমগ্রামে শেষ হল কালীপুজো
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বৃহস্পতিবার রাত বারোটায় মণ্ডপের আলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ ছিল পুলিশের। সেই অনুযায়ী নিভল প্যান্ডেলের আলো। এবার কালীর বিদায় নেওয়ার পালা। উৎসব এবছরের জন্য শেষ। আর মন খারাপের অন্ধকারে ডুবল বারাসত-মধ্যমগ্রাম। বৃহস্পতিবার পুজোর শেষ রাতেও ছিল প্যান্ডেল দেখার হুড়োহুড়ি। সন্ধ্যা নামার পর দুই শহরের রাস্তাই ভরে উঠেছিল ভিড়ে। এদিন ভাইফোঁটা তিথি। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে দুপুরে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া সেরে সন্ধ্যার পর থেকেই সকলে রাস্তায় ঠাকুর দেখতে। বারাসতের যশোর রোড, ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, টাকি রোড কার্যত দর্শনার্থীদের দখলে। রাস্তাজুড়ে কেবলই মানুষ। ১২টার আগে পর্যন্ত আলোয় ঝলমল করেছে রাস্তার প্রতিটি মোড়, পুজো প্যান্ডেল। তারপর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত যত গড়িয়েছে তত বেড়েছে অস্থিরতা। কালীপুজোর আগেই পুজো কমিটির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় মণ্ডপের আলো বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া। এদিন রাত ১২টায় মণ্ডপের সমস্ত আলো বন্ধ করে দেন উদ্যোক্তারা। দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে শুধু রাস্তার আলো জ্বলেছে। তার আগে ভিড় বাঁধ মানেনি। অদ্ভুত হুড়োহুড়ি দেখা গিয়েছে। সবাই একসঙ্গে যেন ছুটেছে সময়কে হার মানাতে। শেষ মুহূর্তে ঠাকুর দেখার উৎসাহ সবার মধ্যে। ব্যারিকেড করে ভিড় সামলাতে হিমশিম পুলিশ। মাইকে ঘোষণা, ধাক্কাধাক্কি করবেন না। সময় সীমিত, ধীরে ধীরে চলুন। তখন দেবীর সামনে শান্তভাবে প্রণাম শেষ করে নেওয়ার পালা। ঘড়ির কাঁটা রাত ১১টা পেরতেই সময় শেষের উৎকণ্ঠা শুরু। দর্শনার্থীদের বক্তব্য, ‘আগামী বছর আরও আগে বের হতে হবে।’ কেউ আক্ষেপের সুরে বললেন, ‘এত ভিড়ের মধ্যে মাকে ঠিকমতো দেখতেই পারলাম না।’ তারপর ১২টা বাজতেই একে একে নিভে গেল প্যান্ডেলের আলো। বেরিয়ে আসতে লাগল জনতা। ঠাকুর এবার যাবে বিসর্জন।

Advertisement

তখন রাস্তা ভেসে যাচ্ছে আলোয়। কেউ গেলেন চায়ের দোকানে। কেউ মোবাইলে শেষবারের মতো প্যান্ডেলের ছবি তুললেন। দেখতে দেখতে আলো ফুটল ভোরের। ফাঁকা হতে শুরু করল রাস্তা। বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, ‘রাত ১২টায় সব পুজো মণ্ডপের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে রাস্তায় মানুষের ভিড় থাকায় আলো ছিল জ্বালানো।’
অবশেষে সকাল হওয়ার পর রাস্তা প্রায় ফাঁকা। ইতিউতি বাজছে রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীত। তাও থামল একসময়। টানা উৎবের পর বিশ্রাম নিতে বাড়ি গেল বারাসত-মধ্যমগ্রাম। এবার এক বছরের অপেক্ষা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ