দেবদেবী সম্পর্কে যখনই আমরা কোনো আলোচনা করে থাকি, তখন সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে ‘এই দেবী’ হলেন ‘এই অমুক দেবতার শক্তিবিশেষ’—কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, স্ত্রীরূপী শক্তি এবং পুরুষরূপী শিব—দু-জনের স্বরূপ ভিন্ন। তন্ত্র ও ভাগবতে [এই] শক্তি এবং শক্তিমান সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। অদ্বৈতবাদীরা শক্তি এবং শক্তিমান বা ব্রহ্মের মধ্যে কোনো ভেদ করে না, কারণ তারা মনে করে মূলত ব্রহ্ম অদ্বয় এবং সেই কারণে সমস্তরকম ভেদই তারা অগ্রাহ্য করে। কিন্তু বেদান্তেও শক্তির উল্লেখ আছে। সেখানে তাঁকে বলা হয়েছে ‘মায়া’। মায়াকে মূলাবিদ্যাও বলা হয়। এই মায়া এমনই একটি শক্তি যা ব্রহ্মের স্বরূপকে আবৃত করে ‘অধ্যাস’ বা আরোপের দ্বারা জগৎ সৃষ্টি করে, যে-জগৎ বাস্তবে মিথ্যা। বেদ বলছেন, পরমেশ্বর মায়াবশত বহুরূপে অনুভূত হন। ভাগবত এবং তন্ত্রে বলা হয়েছে, যে-শক্তিবলে পরমেশ্বর জগতে সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় ঘটাচ্ছেন তা আসলে ‘ভগবতী শক্তি’। শ্রীরামকৃষ্ণ শিব ও শক্তির অভেদত্ব সম্পর্কে বলেছেন: ‘‘বেদান্তবাদী ব্রহ্মজ্ঞানীরা বলে সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয়, জীব, জগৎ-এসব শক্তির খেলা। বিচার করতে গেলে, এসব স্বপ্নবৎ; ব্রহ্মাই বস্তু আর সব অবস্তু, শক্তিও স্বপ্নবৎ, অবস্তু। কিন্তু হাজার বিচার কর... শক্তির এলাকা ছাড়িয়ে যাবার জো নাই।... তাই ব্রহ্ম আর শক্তি অভেদ। এককে মানলেই আর-একটিকে মানতে হয়। যেমন অগ্নি আর তার দাহিকাশক্তি।”


