ইস্ট বেঙ্গলে দু’বছর আর মোহন বাগানে দশ বছর খেলেছি। তাই দুই বড় দলের ড্রেসিং-রুমের আবহর সঙ্গেই আমি পরিচিত। কলকাতা লিগে দুই ক্লাবের যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি থাকত তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। তখন এই প্রতিযোগিতাই ছিল তিন প্রধানের ফোকাস। কর্তা থেকে সমর্থক— সকলেই সব ম্যাচ জিততে চাইতেন। তাই কোচ এবং ফুটবলারদের উপর থাকত বিরাট চাপ। গা-ছাড়া দেওয়ার প্রশ্নই উঠত না। প্রথম একাদশে টিকে থাকার জন্য প্রতিটি ম্যাচেই ভালো খেলা ছিল আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।
সেই সময় ফুটবলারদের জনপ্রিয়তাও ছিল তুঙ্গে। টালিগঞ্জের নায়কদের থেকে আমরা কোনও অংশে পিছিয়ে ছিলাম না। তাই কলকাতা লিগের ম্যাচ দেখতে ভিড় জমত গ্যালারিতে। একটা বিষয় আমার খুব মজা লাগত। ঘরোয়া লিগের বড় ম্যাচ এলেই আবহাওয়া কেমন যেন গরম হয়ে যেত। বাজার-দোকান তো বটেই এমনকী, অফিসেও জেতার আব্দার। ম্যাচের দিন দুই দলের সমর্থকরা একে অপরের মুখ পর্যন্ত দেখত না বললেই চলে। অফিসেও একই অবস্থা। কিন্তু অন্য ম্যাচের আগে ইস্ট বেঙ্গল অনুরাগী সহকর্মীরাই অন্যরকম। অনেকে মিলে আমার কাজ করে দিত। এখন সেই উন্মাদনা কোথায়? ময়দানে তো আর খেলাই হয় না। বাঙালি ফুটবলারদের মানও পড়ছে। তাই আবেগও কমে গিয়েছে লিগের। কে খেলছে, কে জিতছে, কে গোল করছে তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। কলকাতার ফুটবলকে বাঁচাতে সবার আগে এই গুমোট পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হবে। আর তার জন্য দরকার গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্ট। স্থানীয় ফুটবলার তুলে আনতে না পারলে ঘরোয়া লিগ মরে যাবে। একটা কথা জেনে রাখবেন, ফুটবলকে বাঁচাতে পারে ফুটবলাররাই। ভালো মানের ফুটবল হলে মাঠে দর্শক আসতে বাধ্য। তা সে ময়দান হোক বা জেলার মাঠ। তারকা দেখার তাগিদে সমর্থকরা মাঠমুখো হবেনই।