গল: মাস দুয়েক আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। তারপরও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম এগারোয় মানব সুথারের জায়গা পাওয়া নিয়ে ছিল সংশয়। একই সঙ্গে দু’জন বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার খেলানো নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টে ধন্দ থাকাই স্বাভাবিক। শেষ পর্যন্ত কুলদীপ যাদব এবং সুথারকে রেখেই দল নামান কোচ গৌতম গম্ভীর। আস্থার পূর্ণ মর্যাদা রাখলেন প্রতিভাবান স্পিনার। সোমবার সুথার বুঝিয়ে দিলেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। প্রথম বলেই উইকেট। দিনের শেষে পকেটে চারটি শিকার। টিম ইন্ডিয়ার সফলতম বোলার তিনিই। রবীন্দ্র জাদেজার উত্তরসূরি হিসাবে নিজেকে ফের প্রমাণ করলেন রাজস্থানের গঙ্গানগরে জন্মানো ২৪ বছর বয়সি। ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে ব্যাটারকে ফ্রন্টফুটে খেলতে বাধ্য করেন সুথার। বল অনেকটাই টার্ন করাতে সক্ষম। এমনকী নতুন বলও ঘোরাতে পারেন প্রায় একহাত। নিশানাতেও অভ্রান্ত। তাঁর ঘূর্ণিতেই দুই টেস্টের সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ভারতীয় শিবির।
সুথারের সঙ্গে নজর কাড়লেন জাদেজাও। দুই স্পিনারের মিলিত সংগ্রহ সাত উইকেট। মূলত এই জুটিই শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ইনিংসে থামিয়ে দিল ২৮৪ রানে। ভারতের লিড ১৭৮। ব্যবধানটা আরও বড়ো হতেই পারত। ৯০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে একসময় ধুঁকছিল শ্রীলঙ্কা। তখন হোমটিমের উপর ঝুলছে ফলো-অনের খাঁড়া। এমন পরিস্থিতিতেই ষষ্ঠ উইকেটে সোনাল দিনুশা ও নিরোশান ডিকবেলা যোগ করেন অমূল্য ১৪৬ রান। শ্রীলঙ্কাকে যা ভেন্টিলেশন থেকে বের করে আনে। কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ভারতীয় শিবিরের হতাশা বাড়িয়েছেন দিনুশা। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে নিরোশান ফেরার পর অবশ্য ধস নামে। শ্রীলঙ্কার শেষ পাঁচ উইকেট পড়ে মাত্র ৪৮ রানে।
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসায় পড়ন্ত বেলায় ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস অবশ্য শুরু হয়নি। নষ্ট হয় এদিনের বাকি থাকা ১৩ ওভার। শুভমান গিল ব্রিগেডের সামনে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। হাতে আর দু’দিন। মঙ্গলবার চায়ের বিরতির আগে অন্তত শ’দুয়েক রান তোলা জরুরি। চতুর্থ ইনিংসে চারশোর কাছাকাছি টার্গেট রাখার কথাই ভাবছে শিবির। বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেই এদিন সকালে ভারতের ফের ব্যাট করার সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। তৃতীয় দিনের সকালে দু’জন টেলএন্ডারকে ক্রিজে পাঠিয়ে লাভও তো হয়নি। জেতার জন্য শ্রীলঙ্কাকে চার সেশন ব্যাট করানো দরকার। কারণ, বৃষ্টিতে সময় নষ্ট হতেই পারে। তবে তড়িঘড়ি ডিক্লেয়ার করার তাগিদে উইকেট ছুড়ে দেওয়ার ভুল চলবে না একেবারেই। আগ্রাসন প্রয়োজন ঠিকই, তবে তা যেন বেপরোয়া না হয়!
স্কোরবোর্ড: ভারত প্রথম ইনিংস (৪৬০-৯ এর পর)- কুলদীপ অপরাজিত ১৩ , প্রসিদ্ধ ক নিরোশান বো অসিথা ২, অতিরিক্ত ১২, মোট (১১৬.৪ ওভারে) ৪৬২। উইকেট পতন: ১০-৪৬২। বোলিং: অসিথা ১৭.৪-১-৬৩-২, কুমারা ১৩-১-৭৬-০, নুয়ান্থা ৩৯-১-১৭৫-৩, জয়সূর্য ৩৯-৬-১০৯-৪, ধনঞ্জয় ৪-০-১৫-০, দিনুশা ৪-০-১৭-০।
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস- নিশান ক পাদিক্কাল বো সিরাজ ০, ইগালাগামাগে ক যশস্বী বো সুথার ২৭, চান্ডিমল ক পন্থ বো সুথার ৪, কামিন্দু ক গিল বো কুলদীপ ১৪, ধনঞ্জয় ক রাহুল বো জাদেজা ২১, দিনুশা এলবিডব্লু বো জাদেজা ১০০, নিরোশান ক পন্থ বো প্রসিদ্ধ ৮০, নুয়ান্থা ক গিল বো জাদেজা ২, জয়সূর্য ক জুরেল বো সুথার ১০, কুমারা স্টাঃ পন্থ বো সুথার ১০, অসিথা অপরাজিত ০, অতিরিক্ত ১৬, মোট (৭৯.৪ ওভারে) ২৮৪। উইকেট পতন: ১-০, ২-২৭, ৩-৫৩, ৪-৫৯, ৫-৯০, ৬-২৩৬, ৭-২৪৩, ৮-২৭৪, ৯-২৭৪, ১০-২৮৪। বোলিং: সিরাজ ৯-৩-২৯-১, প্রসিদ্ধ ১৪-০-৪৭-১, সুথার ২১.৪-১-৭৬-৪, কুলদীপ ১৪-০-৬৫-১, জাদেজা ২১-৫-৫৭-৩।