Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

জামশেদপুরকে হারিয়ে শেষ চারে মোহন বাগান

তাঁর ব্যর্থতায় ম্যাচে সমতায় ফিরেছিল জামশেদপুর। তবে টাই-ব্রেকারে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন বিশাল কাইল।

জামশেদপুরকে হারিয়ে শেষ চারে মোহন বাগান
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মোহন বাগান- ১                    :    জামশেদপুর এফসি-১
(সাডেন ডেথে ৯-৮ ব্যবধানে জয়ী মোহন বাগান)

Advertisement

শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: তাঁর ব্যর্থতায় ম্যাচে সমতায় ফিরেছিল জামশেদপুর। তবে টাই-ব্রেকারে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন বিশাল কাইল। গত কয়েক বছর ধরেই তাঁর গ্লাভস একাধিক ম্যাচে উতরে দিয়েছে মোহন বাগানকে। সোমবার ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালেও ফের ত্রাতার ভূমিকায় এই অভিজ্ঞ দুর্গপ্রহরী। তাঁর দস্তানায় ভর করে জামশেদপুরকে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছে গেল পানোস ব্রিগেড। নির্ধারিত সময়ে ১-১। এরপর সাডেন ডেথে ৯-৮ ব্যবধানে ম্যাচ পকেটে পুরল মোহন বাগান। মামার শট বিশাল রুখতেই উৎসব শুরু গ্যালারিতে। উঠল স্লোগান, ‘রাখে বিশাল, মারে কে!’
ডুরান্ড কাপের নক-আউটে অতিরিক্ত সময় নেই। ৯০ মিনিটে ফয়সালা না হলে সরাসরি টাই-ব্রেকার। তাই জামশেদপুরকে চাপে ফেলতে শুরুতেই গোল তুলে নিতে চেয়েছিলেন মোহন বাগান কোচ পানোস। সেই লক্ষ্যে পুরোপুরি সফল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। যুবভারতীতে দর্শকরা গুছিয়ে বসার আগেই সাহালের গোল। ২ মিনিটে প্রণয় হালদারের পাস রিসিভ করতে ব্যর্থ মিতেই। সুযোগসন্ধানী সাহালের জাল কাঁপাতে কোনও ভুল হয়নি (১-০)। গ্রিক কোচের জামানায় কেরালাইট ফুটবলার সত্যিই ঝলসাচ্ছেন। যাই হোক, গোল হজম করেও দমে যায়নি জামশেদপুর। নিজেদের ক্রমশ গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেন সানান, প্রণয়রা। ১৬ মিনিটে রেনিয়ারের পাস খুঁজে নেয় আমন সিকেকে। সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে বল পেয়েও বিশাল কাইথকে পরাস্ত করতে পারেননি জামশেদপুরের উইং-হাফ। ১০ মিনিট পর ফ্রি-কিক থেকে অরক্ষিত প্রতীক চৌধুরি বল পেয়েও বাইরে মারলেন। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল পানোস ব্রিগেডও। কিন্তু সার্বিয়ান ড্র্যাজিচ একেবারেই ছন্দহীন। ২৭ মিনিটে সাহালের তুলোর মতো ভাসানো বল অবিশ্বাস্যভাবে বাইরে হেড করেন তিনি। এরপর অভিষেকের সেন্টার থেকে তাঁর ভলিও বিফলে যায়। বৃষ্টিভেজা মাঠে নন কিকিং ফুট ঠিক জায়গায় ছিল না ড্র্যাজিচের। ৪৪ মিনিটে তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর কিয়ানকে নামাতে বাধ্য হন পানোস। সাময়িক তাল কাটার সুযোগ নিয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এল ইস্পাতনগরীর দল। বিরতির আগে মিতেইয়ের ৩০ প্রায় গজের শট অহেতুক সামনে নামিয়ে দেন বিশাল কাইথ! লক্ষ্যভেদে ভুল হয়নি অরক্ষিত দেবেন্দ্র মুরগাওকরের (১-১)। 
দ্বিতীয়ার্ধের জামশেদপুর অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বেগতিক বুঝে একে একে জেলকোভিচ ও ম্যাকলারেনকে নামালেন পানোস। গোল তুলতে মোহন বাগান তখন মরিয়া। উইং থেকে আক্রমণ শানানোর চেষ্টা হল। কিন্তু লিস্টন স্রেফ অতীতের ছায়া। ড্রিবল করতে গিয়ে হুমড়ি খাচ্ছেন। গোয়ানিজ ফুটবলারের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে অবিলম্বে কলকাতা লিগে খেলানো উচিত। মিস পাসের বহর থেকে পানোসও তিতিবিরক্ত। ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গেই যাবতীয় পরিকল্পনা চৌপাট। বর্ষার খানাখন্দের মতোই বেহাল পানোস ব্রিগেড। বিদেশিহীন, বেদম জামশেদপুরের দুর্গ ভাঙা সম্ভব হয়নি। সংযোজিত সময়ে বক্সের মধ্যে আলবার্তোর জার্সি টেনে ফেলে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মোহন বাগান ফুটবলারদের পেনাল্টির জোরালো আবেদন নাকচ করেন রেফারি।
নির্ধারিত সময়ে ১-১। টাই-ব্রেকারে ৫-৫। মোহন বাগানের হয়ে লক্ষ্যভেদে সফল রাহুল ভেকে, জেলকোভিচ, শুভাশিস,ম্যাকলারেন ও কিয়ান। পক্ষান্তরে জামশেদপুরের হয়ে জাল কাঁপান রিয়াতা, রেনিয়ার, আমন, আম্বেকর ও প্রণয়। সাডেন ডেথে মামার শট বাঁচালেন সেই বিশাল। এরপর অভিষেকের গোলে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে গেল মোহন বাগান।
মোহন বাগান: বিশাল, অভিষেক, রাহুল, আলবার্তো, শুভাশিস, আপুইয়া (জেলকোভিচ), অনিরুদ্ধ, ড্রাজিচ (কিয়ান), সাহাল (সুহেল), লিস্টন (সায়ন) ও মনবীর (ম্যাকলারেন)।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ