নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মাসখানেক আগে ছেলের বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দে মেতে উঠেছিলেন মৃত সিআরপিএফ জওয়ানের নাম সুনীলকুমার মণ্ডল(৫৬)। অনুষ্ঠান শেষে কর্মস্থলে গেলেও খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। বাড়ি ফিরলেন। কিন্তু কফিনবন্দি হয়ে। ঝাড়খণ্ড রাজ্যে মাওবাদীদের আইডি বিস্ফোরণে সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুতে গোয়ালতোড় থানার গাছউপড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ১৯৩নং ব্যাটেলিয়নের জওয়ান ছিলেন। এদিন আইডি বিস্ফোরণে সুনীলবাবুর মৃত্যুর খবর বাডিতে আসা মাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুনীলবাবুর জন্য গর্বিত গ্রামের বাসিন্দারা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার ছোটনাগরা এলাকায় মাওবাদী দমন অভিযান চলছে। সেই অভিযানে গিয়েছিলেন সুনীলবাবু। শনিবার দুপুরে অপারেশন চলার সময় তিনি একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন। সেই সময় মাওবাদীদের বিছিয়ে রাখা ফাঁদে পা দেন সুনীলবাবু। সঙ্গে সঙ্গে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুনীলবাবু। মারাত্মক জখম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য তাঁকে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত সিআরপিএফ জওয়ানের আত্মীয় সুজিত পাল বলেন, ওঁর মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আর কয়েক বছর পরই উনি অবসর নিতেন। কিন্তু তার আগেই তিনি দেশের জন্য প্রাণ দিলেন। ওঁর জন্য শুধু পরিবার নয়, গোটা এলাকার সকলেই গর্বিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়ালতোড় থানার গাছউপড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষুদিরাম মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী মণ্ডলের ছেলে সুনীলবাবু। ওই দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান ভারতমাতার সেবায় নিয়োজিত।
সুনীলবাবুর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে শিউলির বছর পাঁচেক আগে বিয়ে হয়েছে। ছেলে বসন্ত মণ্ডল ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে তিনি গুজরাতে থাকেন। জানা গিয়েছে, গত ২৪ জানুয়ারি বিয়ে হয় সুনীলবাবুর ছেলের। ছেলের বিয়ে উপলক্ষ্যে শেষবারের জন্য গ্রামে এসেছিলেন সুনীলবাবু। সেই সময় সপ্তাহখানেক বাড়িতে থেকে তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান। কিছুদিন পর ফের বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। মৃত জওয়ানের মেজদাদা অমল মণ্ডল বলেন, মা-বাবাকে সামলানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। হয়তো গত দু›তিন দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ার বুঝতে পারেনি যে আইডি পোঁতা আছে। পা দিতেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়! ও শহিদ হয়েছে। কিন্তু, মনকে মানাতে পারছি না।
গড়বেতা-২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা সবসময় ওই পরিবারের পাশে থাকব। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।