Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

এসি ছাড়াই ঘর ঠান্ডা!

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ঘর শীতল রাখে ঠিকই, কিন্তু তার দামও চড়া। এসি যখন ছিল না, তখনও গরম ছিল।

এসি ছাড়াই ঘর ঠান্ডা!
  • ২৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ঘর শীতল রাখে ঠিকই, কিন্তু তার দামও চড়া। এসি যখন ছিল না, তখনও গরম ছিল। উষ্ণ আবহাওয়াকে শায়েস্তা করতে ছিল কিছু কৌশলও। সেসব মানলে এসি ছাড়াই ঘর বেশ ঠান্ডা থাকে।

Advertisement

 

দোল পেরিয়ে যেতে না যেতেই আবহাওয়ার পারদ বেশ ঊর্ধ্বমুখী। সকাল থেকেই রোদ কিন্তু বেশ জ্বালা ধরাচ্ছে বঙ্গবাসীর গায়ে। এমন সময় ঘরে ঢুকেই এসি অন করে দেওয়াই একমাত্র স্বস্তির। তবে এতে শরীর ঠান্ডা হয় ঠিকই, কিন্তু এসির ঠান্ডা‌ আর পরিবেশের গরম মিলে শরীরের উপর যে প্রভাব পড়ে তা মোটেও সুখকর নয়। তাছাড়া বাতানুকূল যন্ত্রটির সঙ্গে পরিবেশ বা পকেট কারও সম্পর্কই খুব একটা মধুর নয়। বাজারে এসির দাম এখনও সকলের সাধ্যের মধ্যে পৌঁছতে পারেনি। তাই এসি সকলের জন্য একমাত্র সমাধান নয়।
আবার পরিবেশবিদরাও এসিকে খুব একটা ভালো নম্বর দেন না। কারণ এই যন্ত্র থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি) গ্যাস ওজোনস্তর ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। ফলে সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি সহজেই ঢুকে পড়ছে আমাদের বায়ুমণ্ডলে। এতে উষ্ণতা বাড়ছে পৃথিবীর। তাই এসির অতিরিক্ত ব্যবহার ঘরকে সাময়িক ঠান্ডা করলেও আসলে তা পরিবেশের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই এসির বিকল্প কিছু উপায় অবলম্বন করেও ঘরকে করে তোলা যায় শান্তির নীড়। সঙ্গে পৃথিবীও উষ্ণায়নের হাত থেকে কিছুটা নিস্তার পায়। এসি ছাড়াও কীভাবে আরামদায়ক করবেন ঘর? রইল সেসব উপায়ের হদিশ।
সঙ্গী হোক সবুজ: চারপাশে সবুজের অভাব পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পর্যাপ্ত গাছ যেমন বিশ্ব উষ্ণায়নকে মোকাবিলা করতে পারে, তেমনই বিভিন্ন ইন্ডোর প্ল্যান্ট আপনার ঘরের তাপমাত্রাকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে‌। পাশাপাশি সবুজের ছোঁয়া আপনার ঘরটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতেও সক্ষম। ঘরের ভিতরের হাওয়া-বাতাসকে গাছ পরিশুদ্ধ করে। ইন্ডোর প্ল্যান্ট হিসাবে স্নেক প্ল্যান্ট, ‌অ্যালোভেরা প্রভৃতি গাছ রাখতে পারেন পছন্দের শীর্ষে। 
জানলায় থাকুক সাদা ভারী পর্দা: সাদা রং তাপ শোষণ করে কম। তার প্রভাব পড়ে ঘরের ভিতর। তাই অন্য রঙের পর্দার পরিবর্তে আপনার ঘরের জানালায় রাখুন সাদা পর্দা। এই রঙের পর্দা ঘরকে পরিষ্কার, হালকা ও আধুনিক অনুভূতি দেয়। বিভিন্ন আসবাবপত্রের সঙ্গে সহজে মানিয়েও যায় সাদা রং। সবচেয়ে বড় কথা, এই ধরনের পর্দা বাইরের তাপ শোষণ করে কম, ফলে ঘর ঠান্ডা থাকে। হালকা কাপড়ের চেয়ে ভারী কাপড়ের পর্দা বাছলে সূর্যের আলো পর্দায় প্রতিহত হয় ও ঘরে তাপ 
কম ছড়ায়। 
ফিরে আসুক খসখস: গ্রীষ্মের দাবদাহকে রোধ করতে একসময় গ্রাম-শহর নির্বশেষ মানুষের ভরসা ছিল খসখস। ভেটিভার নামক এক ধরনের ঘাসকে বিশেষ পদ্ধতিতে বুনে খসখস তৈরি করা হয়। অফিসকাছারি বা বাড়িতে খসখসের পর্দা ভিজিয়ে টাঙিয়ে রাখার রেওয়াজ একসময় বহুল প্রচলিত ছিল। প্রযুক্তির দৌড়ে আজ সে বিলুপ্তপ্রায়। তবে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা যখন প্রকৃতিকেই চোখ রাঙাচ্ছে তখন ফিরিয়ে আনা যাক না সেই প্রাকৃতিক কুলারকেই। ইদানীং বেশ কিছু সরকারি শোরুমে খসখস মেলে। অনলাইনেও খোঁজ করতে পারেন খসখসের পর্দা। কোথাও না কোথাও তা অবশ্যই পাবেন।
চিকের আবডাল: খসখসের মতো বাঁশ থেকে তৈরি চিকও ঘরকে প্রাকৃতিক ভাবে ঠান্ডা রাখে। চিক বাইরের তাপকে ঢুকতে বাধা দেয় অন্যদিকে চিকের ফাঁক দিয়ে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে। ফলে ঘরে তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকে, ঘরও ঠান্ডা থাকে। কলকাতা ও শহরতলির একটু বড় স্টোর কিংবা অনলাইনে আজকাল চিক পাবেন।
ফ্যান বরফে কেল্লা ফতে: টেবিল ফ্যান আর একবাটি বরফ। গরমে ঘর ঠান্ডা রাখতে এর চেয়ে সহজ উপায় আর কী আছে? ঘরের এক কোণে টেবিল ফ্যান চালিয়ে তার সামনে বরফভর্তি বাটি রাখলে বরফের ঠান্ডা ভাব পাখার হাওয়ার মাধ্যমে নিমেষে সারা ঘরেই ছড়িয়ে পড়ে, ঘরের তাপমাত্রাকে আরামদায়ক 
করে তোলে। 
শান্তির বারি: ঘরের মেঝেয় জল ছিটিয়ে মুছে নিলে মেঝে ঠান্ডা থাকে, ফলে তাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে না। দিনে দু’-তিন বার এইভাবে ঘর মুছে ঘরকে ঠান্ডা রাখা যায়। তবে জল দিয়ে ঘর মোছার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার, নাহলে পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যাঁদের নিজস্ব বাড়ি, তাঁরা প্রতিদিন বিকেলে পাইপে করে বাড়ির ছাদে জল দিলে দিনভর যে রোদের তাপ ছাদে এসে পড়ে, তার প্রভাব কিছুটা কমে। ছাদ থেকে ঘরে গরম নামাও 
নিয়ন্ত্রিত হয়। 
অন্যান্য উপায়: উপরের নানা উপায়ের পরেও পুরনো কিছু কৌশল আজও ঘর ঠান্ডা রাখতে সক্ষম। দরকারে সেগুলিতেও আস্থা রাখতে পারেন। দুপুরে জানলায় ভিজে চাদর বা পর্দা ঝুলিয়ে জানলা বন্ধ করে রাখুন। বিকেলের দিকে খুলে দিন জানালা। এতে ঘরে তাপ কম ঢুকবে ও পর্দার জল বাষ্পীভবনের ফলে ঘর ঠান্ডা থাকবে। ইদানীং নানা রঙের সংস্থা তাপনিরোধক রং ব্যবহারের বিজ্ঞাপনও দেন। ঘর রং করার কোনও পরিকল্পনা থাকলে সেই ধরনের রংও ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
প্রদীপ্তা কুণ্ডু

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ