Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাঙল অভিভাবকের ভুল, হাতের লেখাই বলে দিল মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে সন্তান!

মেয়ে একদম পড়াশোনা করছে না। কয়েক মাস বাদে নিট, চেষ্টা তো করবে! এই ছিল মা-বাবার অভিযোগ। মেয়েকে বুঝিয়ে, বকা-ঝকা করেও কাজের কাজ হচ্ছে না।

ভাঙল অভিভাবকের ভুল, হাতের লেখাই বলে দিল মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে সন্তান!
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেয়ে একদম পড়াশোনা করছে না। কয়েক মাস বাদে নিট, চেষ্টা তো করবে! এই ছিল মা-বাবার অভিযোগ। মেয়েকে বুঝিয়ে, বকা-ঝকা করেও কাজের কাজ হচ্ছে না। অতঃপর তাঁকে নিয়ে মা-বাবা গিয়েছিলেন গ্রাফোলজিস্টের কাছে। গ্রাফোলজিস্টরা মানুষের হাতের লেখা দেখে, তা বিশ্লেষণ করে, সেই ব্যক্তির মনের ভাব বোঝার চেষ্টা করেন। যদিও এখন শুধু মনের ভাব নয়, জানা যায়, শরীরের জটিল রোগও। এমনই দাবির কথা উঠে এল কলকাতা ইনস্টিটিউট অব গ্রাফোলজি নামের একটি সংগঠনের বার্ষিক সেমিনারে। এই আলোচনাসভায় হাতের লেখার বিশারদরা তুলে ধরলেন এমনই সব কাহিনি। এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা ইনস্টিটিউট অব গ্রাফোলজির ডিরেক্টর মোহন বসু।

Advertisement

সেই ছাত্রীর কথা তুলে ধরে এক বক্তা বললেন, তাঁকে নিয়ে যখন গ্রাফোলজিস্টের কাছে বাবা-মা এসেছিলেন, তাঁর হাতের লেখা পরীক্ষা করা হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল, তাঁর হাতের লেখার স্ট্রোক বলছে, এই পড়ুয়া যে পরিশ্রম করছে না, তা নয়। বরং মনোযোগ দিয়েই পড়ছে। বকা-ঝকা না করাই ভালো। ভুল ভাঙে অভিভাবকের। পরে কথা বলে জানা গেল, প্রতিদিন মেয়েটির ঘুম ভাঙে বাবার একটি কথা শুনে। তা হলো, এবার না হলে, পড়াশোনা ছাড়িয়ে দেব। হয়তো বাবাও সত্যি ছাড়াবেন না, মেয়েটিও পড়বে। কিন্তু এমন একখানা বিষয় প্রকাশ্যে আসত না, যদি না হাতের লেখা সামনে আসত। রবিবার সকালে দেশপ্রিয় পার্কের লায়নস ক্লাব অব ক্যালকাটা প্রেসিডেন্সিতে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। গবেষণা বলছে, হাতে লিখলে ২৭টি হাড়, ৪০টি মাংসপেশি ও মস্তিষ্কের কোষের ৮৫ শতাংশ একযোগে কাজ করে। গ্রাফোলজিস্টরা বলছেন, ইদানীংকালে ডিজিটাল লেখার অভ্যাস বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। গ্রাফোলজিস্ট শময়িতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, এখন তাঁদের কাছে কর্পোরেট জগতে কর্মরতরা সবচেয়ে বেশি আসছেন। অফিসে স্বীকৃতিহীন কাজের প্রবল চাপের কারণে মনের মধ্যে রাগ জন্মাচ্ছে। তা পরিষ্কারভাবে হাতের লেখার এক-একটি আঁচড়ে প্রতিফলিত হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে, পারিবারিক সমস্যা। গ্রাফোলজিস্ট বলছেন, অফিসে সমস্যা অনেকেরই থাকে। কিন্তু সকলেরই ভরসার জায়গা নিজের বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়িও যদি সমস্যার জায়গা হয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এসবের প্রভাব পড়ে হাতের লেখায়। হাতের লেখা বিশারদদের আরও বক্তব্য, ট্রমা এমনই একটি বিষয়, যা দীর্ঘদিন মানুষের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে থেকে যায়। 
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, একটা কলমের আঁচড়ে বোঝা যায় মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ডিপ্রেশন, আত্মহত্যার প্রবণতা সহ একাধিক মানসিক ব্যাধির কথা। এমনকি বহুমূত্র, হার্টের অসুখ সহ মোট ২৭ রকমের রোগও ধরা পড়ে। অপরাধ প্রবণতার ক্ষেত্রে হাতের লেখা বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ