সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ব্রিটিশ আমলে উদয়নারায়ণপুরের গড়ভবানীপুরে শিক্ষার বিস্তারে স্থানীয় জমিদারকে বিদ্যালয় স্থাপনে অনুপ্রাণিত করেছিলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। শুধু তাই নয়, একবার এই বিদ্যালয়েও এসেছিলেন তিনি। সেই দিনটির কথা মনে রেখে প্রতি বছর উদয়নারায়ণপুরের গড়ভবানীপুর রামপ্রসন্ন বিদ্যানিকেতনে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস পালন করা হয়। মঙ্গলবার ছিল ঈশ্বরচন্দ্রের প্রয়াণ দিবস। সেই উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁর জীবনের নানা দিকে আলোকপাত করেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা।
বাংলায় তখন ব্রিটিশ শাসন। সেই সময় বাংলার মানুষকে শিক্ষিত করতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিভিন্ন জমিদারের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তেমনই তিনি ১৮৬০ সালে বীরসিংহ গ্রাম থেকে কলকাতা আসার পথে অবিভক্ত হুগলি জেলার বিধিচন্দ্রপুরের জমিদার রামপ্রসন্ন রায়কে এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালানোর জন্য বিদ্যালয় স্থাপনে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। এরপর ১৮৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গড়ভবানীপুর রামপ্রসন্ন বিদ্যানিকেতন। পরবর্তীকালে ১৮৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হুগলির বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে এই বিদ্যালয়ে এসেছিলেন বিদ্যাসাগর। শুধু তাই নয়, স্থানীয় জমিদারের বাড়িতে রাত্রিবাসও করেছিলেন তিনি। সেইসময় তিনি জমিদার রামপ্রসন্ন রায়কে একটি শংসাপত্র দিয়েছিলেন। অতীতের সেই স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে এই বিদ্যালয়। ২০১৭ সালে বিদ্যালয়ের সার্ধশতবর্ষে পূর্তি উৎসবে বিদ্যাসাগরের মূর্তি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা ১২৩০। শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন ২০ জন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্ণব চক্রবর্তী বলেন, এলাকার মানুষের পাশাপাশি আমরা আজও গর্বের সঙ্গে এই দিনটি স্মরণ করি। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সুখেন্দু চন্দ্র বলেন, টিনের চালের ছোট ঘরে যে বিদ্যালয়ের সূচনা হয়েছিল, তা আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের হাতে লেখা শংসাপত্রের প্রতিলিপি সংরক্ষিত আছে উদয়নারায়ণপুরের মাধবীলতা মহাবিদ্যালয়ের লাইব্রেরির আর্কাইভে। স্থানীয় বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, ব্রিটিশ আমলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সুপারিশেই অনুমোদন পেয়েছিল এই বিদ্যালয়। তার একজন প্রাক্তনী হিসেবে এটি আমার কাছে আবেগের বিষয়। সেইদিনের কথা ভেবে আজও আমি রোমাঞ্চিত হই।-নিজস্ব চিত্র