Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দে পরিবারের রথে মধ্যমণি হয়ে বিরাজ করেন কুলদেবতা নারায়ণ, কাশীপুরে বাড়ির বাগানের ফল ছাড়া জগন্নাথের পুজোই হয় না

ঘিঞ্জি উত্তর কলকাতার কাশীপুরে দে পরিবারের বাড়ি। সে বাড়ির ভিতর এখনও গোটা পাঁচেক বিশাল আম গাছ।

দে পরিবারের রথে মধ্যমণি হয়ে বিরাজ করেন কুলদেবতা নারায়ণ, কাশীপুরে বাড়ির বাগানের ফল ছাড়া জগন্নাথের পুজোই হয় না
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘিঞ্জি উত্তর কলকাতার কাশীপুরে দে পরিবারের বাড়ি। সে বাড়ির ভিতর এখনও গোটা পাঁচেক বিশাল আম গাছ। সাত-আটটা কাঁটাল গাছ। অনেকগুলি করমচা গাছ। সেই গাছের ফল ছাড়া রথের পুজো হয় না। ফলে ঠাসাঠাসি বাক্সবাড়ির উত্তর কলকাতাতেও বাড়ির ভিতর বড় বাগান। দেবতার পুজোর নিমিত্তে সে গাছ কাটা নিষেধ। কাশীপুরে দে পরিবারের গোপীনাথ জিউ ঠাকুরের রথযাত্রা ৩০০ বছরেরও প্রাচীন। এ নিয়ম সেকাল থেকেই চলছে। কোনও ব্যত্যয় হয়নি।দে বাড়িতে ১৩ ফুটের নিমকাঠ দিয়ে তৈরি হয় রথ। পুজোয় দিতে হয় সাদা রঙের নানা সুগন্ধী ফুল। রথে থাকেন প্রভু জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। তবে প্রধান দেবতা হিসেবে আসীন থাকেন কুলদেবতা নারায়ণ। সিংহাসনে বসানো হয় নারায়ণ শীলাকে। তিনি পরেন লালচেলি, সোনার অলঙ্কার। ফুলের সাজ তাঁর সর্বাঙ্গে। বাড়ির সেবায়েত তুষার দে ও তাঁর স্ত্রী গোধূলি দে। তাঁরা বলেন, ‘নিয়ম ও রীতি মেনে দুপুরে পুজো হয়। মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বিকেলে জগন্নাথদেবকে ভক্তদের কাঁধে চাপিয়ে রথে এনে বসানো হয় রথে। তার আগে একাধিক ব্যঞ্জন সহকারে দুপুরের খাবার নিবেদন করা হয় প্রভুকে। কুলদেবতাকে আলাদা ভোগ নিবেদনের রীতি। ভোগের পর বিশ্রাম। তখন মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে।’ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রথের দিন বিকেলে কাশীপুরে পথ পরিক্রমা করে রথ। যায় মাসির বাড়ি। তারপর ভক্তদের কোলে চেপে নারায়ণ রথ থেকে নামেন। ফেরেন মূল মন্দিরে। রথযাত্রায় অংশ নেওয়া পুরুষরা পরেন সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি। একসময় খুব বড় করে রথযাত্রা হতো। এখন অনুষ্ঠান বহরে কমেছে।

Advertisement

দে বাড়ির রথ ও জগন্নাথের মূর্তি রং করার কাজ শুরু হয় স্নানযাত্রার দিন। উল্টোরথে মাসির বাড়ি থেকে বিকেলে শোভাযাত্রা করে রথ পথে পথে ঘোরে। সন্ধ্যায় ফেরে রতনবাবু রোডের বাড়িতে। এলাকার বহু মানুষ যাত্রায় অংশ নেন।
কাশীপুরের পাশাপাশি বাগবাজার বলরাম বসুর বাড়িতেও মহা সমারোহে রথযাত্রা উৎসব হয়। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব স্বয়ং এই বাড়িতে এসে রথের রশিতে টান দিয়েছিলেন। এখনও প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ আসেন উৎসবে অংশ নিতে। প্রত্যেকের হাতে প্রসাদ তুলে দেওয়ার রীতি। এছাড়াও বাগবাজারে একটি বিশাল রথযাত্রা উৎসব হয়। তাকে কেন্দ্র করে বসে বিশাল মেলা। হয় সাংস্কৃতিক উৎসব। এছাড়া দর্জিপাড়ার মিত্র বাড়ি, লাহা বাড়ি, শোভাবাজার রাজবাড়ি সহ উত্তর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক ঐতিহ্যবাহী রথ বের হয়। সবমিলিয়ে রথের দিন কলকাতা হয়ে ওঠে উৎসব নগরী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ