Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩ মাস আগে বসা পেসমেকার নিয়ে ব্রিগেডে হাজির ছিয়াত্তরের সমাপ্তি!

তিনমাস আগে পেসমেকার বসেছে। কিন্তু তাতে কী? কুছ পরোয়া নেই! ধকল সহ্য করেও রবিবারের ব্রিগেড সমাবেশে হাজির হলেন বছর ছিয়াত্তরের বৃদ্ধা সমাপ্তি সান্যাল।

৩ মাস আগে বসা পেসমেকার নিয়ে  ব্রিগেডে হাজির ছিয়াত্তরের সমাপ্তি!
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিনমাস আগে পেসমেকার বসেছে। কিন্তু তাতে কী? কুছ পরোয়া নেই! ধকল সহ্য করেও রবিবারের ব্রিগেড সমাবেশে হাজির হলেন বছর ছিয়াত্তরের বৃদ্ধা সমাপ্তি সান্যাল। কপালে ভাঁজ পড়ছে। গলার চামড়াও ঝুলেছে। তবুও, তাঁর চোখ এখনও সপ্রতিভ। ব্রিগেডে প্রবেশের সময় তাঁর চোখ যেন ‘জ্বলে’ উঠল! ভিড়, লাল পতাকার ছয়লাপ দেখে পাশে বন্ধুর হাত জড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে বললেন, ‘লালের ব্রিগেডে আসতেই হবে। এটাই তো নেশা! বাঁচার রসদ।’

Advertisement

সমাপ্তি দেবী সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। অবসরের পরেও স্থানীয় একটি স্কুলে বিনা পারিশ্রমিকে পড়ান। ব্রিগেডে তাঁর সঙ্গে ছেলে এসেছেন। রয়েছেন কোচবিহার থেকে আসা বান্ধবী তথা আত্মীয় গৌরী সেনগুপ্ত। তাঁর বয়স ৮০ ছুঁইছুঁই। দু’জনে হাত ধরাধরি করে ব্রিগেডের মাঠে। সমাপ্তি দেবীর ছেলের কথায়, ‘তিনমাস আগেই সার্জারি হয়েছে। মায়ের বুকে পেসমেকার বসেছে। অনেক বারণ করেছিলাম। কিন্তু কে শোনে কার কথা! বলে কি না, যতদিন বেঁচে আছি ব্রিগেড হলে আসবই!’ কতগুলি ব্রিগেড দেখলেন? জিজ্ঞাসা করতেই সমাপ্তি দেবী বলেন, ‘কতবার ব্রিগেডে এলাম, তা গুনে বলতে পারব না। সেই ক্লাস নাইনে পড়ার সময় প্রথম ব্রিগেডে এসেছিলাম। তারপর থেকে কোনও সভা বাদ দিইনি। ব্রিগেডে আসব শুনে ডাক্তার বারণ করেছিল। বলেছিল, এই ধকল নেবেন না। কিন্তু, ব্রিগেডে আসা তো নেশা! যতদিন শরীর দিচ্ছে আসবই।’
তঁর পাশে থাকা কোচবিহার থেকে আসা আশি বছরের গৌরী দেবীও কোনও ব্রিগেড মিস করেন না। তাই চার গণ সংগঠনের ডাকা এবারের ব্রিগেডেও তিনি চলে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘বয়স হয়েছে। কবে কী হয়! যতদিন বেঁচে আছি, শরীর সুস্থ আছে, ব্রিগেড ‘মিস’ করা যাবে না।’

সম্পর্কিত সংবাদ