Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

সুফল পাবে অর্থনীতি

আমাদের দেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মান ভীষণই খারাপ। কল্যাণকামী রাষ্ট্র দাবি করা সত্ত্বেও, ভারত সরকার এই ব্যাপারে কোনও নজর দেয় না।

সুফল পাবে অর্থনীতি
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

আমাদের দেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মান ভীষণই খারাপ। কল্যাণকামী রাষ্ট্র দাবি করা সত্ত্বেও, ভারত সরকার এই ব্যাপারে কোনও নজর দেয় না। পেনশন নামক সুরক্ষা বেশিরভাগ প্রবীণ নাগরিকের নিকট অধরা। কোটি কোটি নাগরিকের রুটিরুজি অসংগঠিত ক্ষেত্র নির্ভর। সেখানে পিএফ এবং পেনশনের সুবিধা মেলে না। সরকার একাধিকবার ধুয়ো তুলেও এই বিষয়ে এখনও কোনও আশার আলো দেখাতে পারেনি। এনিয়ে এখনও পর্যন্ত যা চলছে তা কুনাট্য মাত্র। সংগঠিত ক্ষেত্রে ইপিএস-৯৫ নামক স্কিমের আওতায় পেনশনের নামে নির্মম এক প্রহসন চলছে বছরের পর বছর ধরে। লাগাতার অনশন করেও সংশ্লিষ্ট প্রবীণ শ্রমিক শ্রেণি কোনও সুরাহা পাননি। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থসূত্রেই জীবনসায়াহ্নে ভদ্রস্থ পেনশন তাঁদের হকের পাওনা। কিন্তু মোদি সরকার তা গায়ের জোরে আটকে রেখেছে। অন্যদিকে, এমপিদের মাসিক ভাতা থেকে পেনশন সবই বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। অথচ ওই অর্থ প্রাপ্তির পিছনে তাঁদের ব্যক্তিগত কন্ট্রিবিউশন শূন্য! এই অর্থ তাঁরা ‘আপনা হাত জগন্নাথ’ নিয়মেই বাড়িয়ে নিচ্ছেন। মানুষেরই ভোটে তাঁরা আইন প্রণয়নের অধিকারী। সেই ক্ষমতাবলেই নিজেদের পাওনাগন্ডা বিপুল হারে বাড়িয়ে নিচ্ছেন এমপি-মন্ত্রীরা—আর জনগণের জন্য বঞ্চনার ট্র্যাডিশন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা সমানে!

Advertisement

সব মিলিয়ে যা অবস্থা, সাধারণ নাগরিককে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের উপর বিশেষ জোর দিতেই হয়। কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও সকলে পর্যাপ্ত সঞ্চয় করতে পারেন না। তার কারণও একাধিক। একদিকে ব্যাংক, ডাকঘর সবার নাগালে নেই। কিছু ক্ষেত্রে তা থাকলেও সেসব চালু রাখার খরচ সাধারণের সাধ্যের মধ্যে থাকে না। তার উপর রয়েছে সুদের নিম্নহার। সুদ থেকে আয় এতই কম যে বহু মানুষ সঞ্চয় বা আমানতের বিকল্প পথ গ্রহণ করেন। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই সেটা করতে গিয়ে কিছু লোক চিটফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ার প্রভৃতি ক্ষেত্রে টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যান। অন্যদিকে, মোদির ডিজিটাল ভারতে হাঁ করে আছে অনলাইন প্রতারক বা সাইবার ক্রিমিনালরা। অসতর্কভাবে অনলাইন লেনদেন করতে গিয়ে কিংবা সাইবার প্রতারকদের অন্যবিধ ফাঁদে পা দিয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বহু গ্রাহক। এসব ইদানীং নিত্যদিনের ঘটনা। একাধিক নেতিবাচক ঘটনায় বিভ্রান্ত বহু মানুষকে ব্যাংক-বিমুখ করে রেখেছে। দেশের অর্থনীতির উপর যে এর বিরূপ প্রভাবই পড়ছে, তা এক সহজ অনুমান। এই প্রবণতা রুখতে না পারলে মোদি সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া স্লোগানও সফল হওয়া মুশকিল। সম্ভবত, এসব কারণেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। সাধারণ মানুষকে ব্যাংকমুখী করে তুলতেই তারা মরিয়া। এজন্য সেভিংস অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ঢালাও সুবিধা প্রদানের নীতি নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই)। ‘বেসিক সেভিংস ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট’ খুললে গ্রাহক বিনামূল্যে কী কী পরিষেবা পাবেন, তার একটি খসড়া প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে ন্যূনতম ব্যালান্স মেনটেন আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। চেকবইয়ের জন্যও গ্রাহককে বাড়তি কোনও চার্জ গুনতে হবে না। এটিএম ছাড়া অন্যান্য উপায়ে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুললেও দিতে হবে না আলাদা কোনও খরচ। এমনকি, গ্রাহক ইন্টারনেট বা মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবা পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। 
২০১৯ সালের নির্দেশের সঙ্গে বেশ কয়েকটি নতুন সুবিধা দেবে আরবিআই। এতদিন বেসিক সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গ্রাহকদের চেকবই পরিষেবার জন্য বাড়তি খরচ করতে হতো। নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে ২৫ পাতার চেকবই মিলবে বিনামূল্যে। ডেবিট কার্ডের অ্যানুয়াল ফি-ও তুলে দেওয়া হল। এটিএম কার্ডে বিনামূল্যে মাসে চারবার পর্যন্ত টাকা তোলা এবং ট্রান্সফার করা চলবে। তবে পিওএস, ডেবিট কার্ড, ইউপিআই, আরটিজিএস, এনইএফটি, আইএমপিএস পরিষেবা সীমিত চারটি লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত নয়। গ্রাহক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাশবইয়ের সুবিধা অথবা মাসিক লেনদেন সংক্রান্ত স্টেটমেন্টও পাবেন। ব্যাংকগুলি চাইলে অবশ্য এসবের বাইরে আরও কিছু পরিষেবা টাকার বিনিময়ে দিতে পারে। বেসিক সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রাখার কিছু সীমাবদ্ধতাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে আরবিআই। সব মিলিয়ে একটি গ্রাহক-বান্ধব ব্যাংক পরিষেবার কথাই ঘোষিত হয়েছে। এই নীতি স্বচ্ছতার সঙ্গে রূপায়িত হলে নিম্ন আয়ের মানুষজনই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে আশা করা যায়। দেখতে হবে, কোনও ব্যাংক যেন এই নিয়ম ভাঙার চেষ্টা না করে। নিয়মের অপব্যবহার বন্ধে যত্নবান হতে হবে গ্রাহকদেরকেও। তাহলে সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং অভ্যাস দ্রুত বাড়বে এবং তার নিশ্চিত সুফল পাবে দেশের অর্থনীতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ