


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাস্তার বিভিন্ন ‘ব্লাইন্ড স্পট’ এবং ‘ব্লাইন্ড কর্নারে’ রিয়েল টাইম আপডেট দেবে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি যন্ত্র। কোনো গাড়ি ঠিক কত গতিতে আসছে, তার সঠিক হিসাব কষে জানিয়ে দেবে উলটোদিকের চালককে। এমনকি যখন কোনো গাড়িই সেভাবে দৃশ্যমানই নয়, তখনও যন্ত্র তাকে ‘দেখবে’ এবং সেইমতো সচেতন করার বার্তা পাঠাবে। ফলে আগেভাগেই যথাযথ পদক্ষেপ করতে পারবেন গাড়ি চালকরা। স্বাভাবিকভাবে কমবে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। এনআইটি রাউরকেল্লার ডিপার্টমেন্ট অব ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এহেন উদ্ভাবনে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই উদ্ভাবন প্রকাশিত হয়েছে নামী সায়েন্স জার্নালেও। এনআইটি রাউরকেল্লার ওই অধ্যাপকদের দাবি, বিশেষ করে দেশের গ্রামাঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকায় এই প্রযুক্তি সবথেকে বেশি কাজে আসবে। কারণ গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এখনো পিছিয়ে রয়েছে ওই সমস্ত অঞ্চল। ফলে সেখানে দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি দু’য়েরই হার অপেক্ষাকৃত বেশি।
দেশে যত গাড়ি দুর্ঘটনা হয়, তার একটি অন্যতম প্রধান কারণ রাস্তার ‘ব্লাইন্ড স্পট’ এবং ‘ব্লাইন্ড কর্নার’। দু’টো গাড়ি ঠিকমতো দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এনআইটি রাউরকেল্লার সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদ্ভাবন করা এই প্রযুক্তি এক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে। এর নেপথ্যে থাকা অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ (আইওটি) এবং ‘এজ কম্পিউটিং টেকনোলজি’র ব্যবহার করে তাঁরা গোটা প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে রাস্তার ধারে সংশ্লিষ্ট যন্ত্র ইনস্টল করানো হবে। বিশেষ নজরদারি ক্যামেরা, সেন্সর এবং ‘কম্পিউটার ভিশন অ্যালগরিদমে’র মাধ্যমে ওই যন্ত্রগুলি কাজ করবে।
তবে শুধুমাত্র গতিই মেপে দেওয়া নয়, দু’দিকের গাড়ি চালককেই সঠিক দূরত্বও জানিয়ে দেওয়া হবে। ফলে দু’টি গাড়িতে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকবে না। উদ্ভাবকদের দাবি, যে অ্যালার্ট সংশ্লিষ্ট গাড়ি চালকরা পাবেন, তা হবে রিয়েল টাইম আপডেট। এনআইটি রাউরকেল্লার যে তিন অধ্যাপক এই কৃতিত্বের দাবিদার, তাঁরা হলেন প্রফেসর সন্তোষকুমার দাস, প্রফেসর উমেশচন্দ্র পতি এবং প্রফেসর পুনম সিং। তাঁদের দাবি, এহেন প্রযুক্তির আরও পরিবর্ধিত রূপ হিসাবে এর সঙ্গে অ্যাক্সিডেন্ট ডিটেকশন সিস্টেমও জোড়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা থাকবে জিপিএসেরও। অর্থাৎ, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকারী দলের যাতে অকুস্থলে পৌঁছাতে বিন্দুমাত্র দেরি না হয়, পরিবর্ধিত এবং সংশোধিত উদ্ভাবনে সেই লক্ষ্যকেই কাজে লাগানো হচ্ছে। ছবি সমাজমাধ্যমের সৌজন্যে।