Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

জট কাটল, নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে সুশীলা কারকি

দিনভর দ্বন্দ্ব-হাঙ্গামা-বিক্ষোভ। দফায় দফায় বৈঠক। শেষপর্যন্ত সন্ধ্যা গড়িয়ে মিলল সমাধানসূত্র। অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে সিলমোহর সেই সুশীলা কারকির নামেই। প্রধান বিচারপতির পর প্রধানমন্ত্রী—প্রথম মহিলা হিসেবে নেপালে আবারও ইতিহাস গড়লেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী।

জট কাটল, নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে সুশীলা কারকি
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১০:০৯

কাঠমাণ্ডু: দিনভর দ্বন্দ্ব-হাঙ্গামা-বিক্ষোভ। দফায় দফায় বৈঠক। শেষপর্যন্ত সন্ধ্যা গড়িয়ে মিলল সমাধানসূত্র। অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে সিলমোহর সেই সুশীলা কারকির নামেই। প্রধান বিচারপতির পর প্রধানমন্ত্রী—প্রথম মহিলা হিসেবে নেপালে আবারও ইতিহাস গড়লেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী। সেটাও এই ৭৩ বছর বয়সে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রেসিডেন্টের দপ্তর শীতল নিবাসে হল শপথ অনুষ্ঠান। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌড়েলের উপস্থিতিতে শপথবাক্য পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসলেন সুশীলা। রাতেই ছোট মন্ত্রিসভার জন্য বৈঠক হয়েছে। স্থির হয়েছে, ছ’মাসে নির্বাচন হবে নেপালে।

Advertisement

‘জেন জি’র বিক্ষোভের জেরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কে পি শর্মা ওলি। তারপর বিদ্রোহের আগুনও আপাতত নিভেছে। কিন্তু সাংবিধানিক সংকট কাটার নাম নিচ্ছিল না। অন্তর্বর্তী নেতা নির্বাচন নিয়ে ফাটল চওড়া হচ্ছিল আন্দোলনকারীদের মধ্যেও। প্রথমে সুশীলা কারকির নাম ঘোষণা করা হলেও পরে আপত্তি ওঠে। ‘জেন জি’ নেতৃত্বের একাংশ পাল্টা বিদ্যুৎ পর্ষদের প্রাক্তন প্রধান কুলমান ঘিসিংয়ের নামে সিলমোহর দেয়। যদিও এদিন বিকেলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তাঁকে পিছনে ফেলে অন্তর্বর্তী নেতা পদে মূল দাবিদার হয়ে ওঠেন নেপালের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা। এদিন দুপুর থেকে সব পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে এনিয়ে মতবিরোধের অবসান ঘটান স্বয়ং প্রেসিডেন্ট পৌড়েল। তার মধ্যেই অবশ্য শীতল নিবাসের বাইরে লাগাতার বিক্ষোভ দেখিয়েছে ধারনের মেয়র হরকা সাম্পাং এবং কুলমান ঘিসিংয়ের সমর্থকরা। এই অচলাবস্থার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সংগঠন ‘বৃহৎ নাগরিক আন্দোলন’ (বিএনএ)—‘সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় নেপালে ফের রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার গোপন ষড়যন্ত্র চলছে।’ যদিও কোনও দাবিকে মান্যতা দেয়নি ‘জেন জি’ নেতৃত্ব।  আপাতত ২০১৫ সালে চালু হওয়া বর্তমান সংবিধানকেই বজায় রাখতে রাখতে চাইছে সব পক্ষই। 
২০১৬ সালে নেপালের প্রধান বিচারপতি পদে বসেছিলেন সুশীলা। তাঁকে ওই পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সদ্য ইস্তফা দেওয়া প্রধানমন্ত্রী ওলির নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক কাউন্সিলই। ১৯৫২ সালের ৭ জুন ভারত সীমান্তের কাছেই শংকরপুরে (অধুনা বিরাটনগরে) জন্ম হয়েছিল সুশীলাদেবীর। সেখানকার কলেজ থেকেই স্নাতক হন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়তে এসেছিলেন বেনারসে। সেই স্মৃতি আজও উজ্জ্বল অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর মনে। পরে দেশে ফিরে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাশ করেন। পরে আইনজীবী থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি—দীর্ঘ কেরিয়ারে কোনওদিন আপস করেননি। ঘুষ নেওয়ার দায়ে এক মন্ত্রীকেও জেলে পাঠিয়েছিলেন। পড়েছিলেন ইমপিচমেন্টের মুখেও। সুশীলা দেবীর স্বামী নেপালি কংগ্রেস নেতা দুর্গা সুবেদি নেপালের পঞ্চায়েতবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে একটি বিমান হাইজ্যাকিংয়ে জড়িত ছিলেন।
 শপথ পাঠ সুশীলা কারকির।

সম্পর্কিত সংবাদ