নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লিভার স্টিফনেসের মান ৬ (ছয়) কিলোপাস্কেলের বেশি হলেই সতর্ক হতে হবে। একইভাবে ‘কন্ট্রোলড অ্যাটেনিউয়েশন প্যারামিটার’ (সিএপি) ২৫৫ ডেসিবেলস/মিটার হলেই বুঝতে হবে শিকার হচ্ছেন ফ্যাটি লিভারের। ফাইব্রোস্ক্যানের মাধ্যমেই ধরা পড়ে লিভার তথা যকৃতের স্বাস্থ্য। জেনে নেওয়া যায়, কী অবস্থায় রয়েছে শরীরের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যকৃতের সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সোমবার এক অনুষ্ঠানে এই বার্তাই তুলে ধরল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। প্রতি বছর ১৯ এপ্রিল পালন হয় ‘বিশ্ব যকৃৎ দিবস’ হিসেবে। ওইদিন ছিল শনিবার। সরকারি ছুটির দিন। তাই সোমবার অনুষ্ঠান হয়। সেখানে সহজ দাওয়াই হিসেবে খাবারে তেলের ব্যবহার কমপক্ষে ১০ শতাংশ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হল। এছাড়াও ভাজাভুজি, পরোটা, লুচি কমিয়ে স্যালাড, সব্জি, ফলের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে। সঙ্গে কমপক্ষে আধঘণ্টা ব্যায়াম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অফিস নির্মাণ ভবনে যকৃতের সমস্যা কমাতে ‘ফুড ইজ মেডিসিন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়া এবং ইনস্টিটিউট অব লিভার অ্যান্ড বাইলিয়ারি সায়েন্সেসের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, লিভারে মেদ অন্যান্য নানা রোগ ডেকে আনে। হতে পারে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা, ডায়াবেটিস এমনকী ক্যান্সারও। তবে আশার কথা এটাই যে, ফ্যাটি লিভার শুধু কমেই যায় না, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সেরেও যায়। তাই খাদ্যভ্যাসে বদল আনতে হবে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাতে’র প্রসঙ্গ টানেন নাড্ডা। যেখানে নরেন্দ্র মোদি খাবারে কমপক্ষে ১০ শতাংশ তেলের ব্যবহার কমানোর আবেদন করেছিলেন। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাট ডিজিজের সমস্যা দেশে ক্রমশ বাড়ছে। যা লিভার তথা যকৃতের রোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য মোতাবেক প্রতি ১০ জনে ১-৩ জন ফ্যাটি লিভারের শিকার। যা আদতে পরবর্তীকালে লিভারের অসুখ বাঁধায়। তাই ফ্যাটি লিভার হওয়ার আগেই তা আটকাতে সচেতন হওয়ার পরামর্শ কেন্দ্রের।