


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে এসে দাঁড়ালেন হুগলির উত্তরপাড়ার শুভম চট্টোপাধ্যায়। ২৫ দিনে ছুঁলেন তিন-তিনটি পর্বত শিখর। ১ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় শৃঙ্গ জয় করলেন। দক্ষিণ আমেরিকার অ্যাকনকাগুয়ায় ওড়ালেন ভারতের পতাকা। এবার বিশ্বরেকর্ড এসে গিয়েছে নাগালের মধ্যে। একদা বাঙালির স্বপ্ন মজুত থাকত সাত সাগর আর তেরো নদীর পাড়ে। আধুনিক বাঙালি হিন্দমোটরের শুভম স্বপ্নের লক্ষ্যমাত্রা ৭। সাত মহাদেশের সাত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আর সাত আগ্নেয় পর্বত লক্ষ্য। সবথেকে কম সময়ের মধ্যে তা জয়ের টার্গেট শুভমের। ২০২৪ এ পাহাড় চড়া শুরু করেছিলেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে বাকি রইল কেবল তিন শৃঙ্গ। ২০২৬ সালের জনের মধ্যে লক্ষ্যপূরণ করতে পারলে বিরল বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী হবেন।
হিন্দমোটরের এক এঁদো গলি থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলিকে নতজানু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এখনও তিরিশ না পার করা এক বাঙালি। সদ্য ছ’হাজার ৯৬২ মিটার অ্যাকনকাগুয়া থেকে নেমেছেন। এখনও শ্বাস নিতে হচ্ছে স্বাভাবিকের থেকে দ্রুতগতিতে। তার মধ্যে বললেন, ‘আর চারমাসের লড়াই। তারপরই ছুঁয়ে ফেলতে পারব স্বপ্ন। এটা ভাবতেই বাড়তি উৎসাহ পাচ্ছি।’ গলার স্বরে ধরা পড়ছিল না বিশ্বের অন্যতম দুর্গম শৃঙ্গ জয়ের ক্লান্তি, প্রকাশ পাচ্ছিল না মাত্র ২৫ দিনে তিনটি শৃঙ্গ ছুঁয়ে ফেলার ধকল। বললেন, ‘মার্চে একটি আগ্নেয়পর্বত, এপ্রিলে এভারেস্ট আর জুনে উত্তর আমেরিকার শৃঙ্গ দেনালি জয়ের লক্ষ্য।’ শিখর জেতার খবর ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে উত্তরপাড়ায়। শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যেতে শুরু করেছে। ছা-পোষা ব্যবসায়ী পরিবারে খুশির হাওয়া। উল্লসিত প্রবীণ বাবা-মা আর দাদা। শুভমকে শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষায় উত্তরপাড়া পুরসভা। চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, ‘বাংলার ছেলের র এরকম সাফল্য প্রতিদিন দেখা যায় না। শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষা করছি। উত্তরপাড়ার অনেক গর্ব আছে। কিন্তু বিরল রেকর্ডধারীকে পাওয়ার কথা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।’
কেমন শৃঙ্গ অ্যাকনকাগুয়া? এশিয়া মহাদেশের বাইরে থাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। আর আর্জেন্টিনা স্থিত দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ। ১৮৯৭ সালে প্রথমবার জয় করা হয়েছিল। একাধিক হিমবাহ থাকায় সে শৃঙ্গ জয় বেশ কঠিন। সে প্রতিবন্ধকতা তুচ্ছ করেই পাহাড় চড়েছেন শুভম। ৭ জানুয়ারি ২০২৬ সালে প্রথম সাফল্য এসেছিল। অ্যান্টার্কটিকার মাউন্ট ভিনসনের শিখরে উঠেছিলেন। ২০ জানুয়ারি চড়েছিলেন আগ্নেয় পর্বত মাউন্ট সিডলে। আর ১১ দিন পর ১ ফেব্রুয়ারি অ্যাকনকাগুয়া। শিল্পোদ্যোগী হিসেবে পথ চলা শুরু করেছিলেন শুভম। তারপর বুকে বাসা বাধে স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আশ্রয় করে এখন পাহাড় জয় অভাস করে ফেলেছেন ভেতো বাঙালি পরিবারের অভিযাত্রী সন্তান।