Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বঙ্গের ভোটারদের ‘দেশদ্রোহী’ তকমা কমিশনের, ফের চিঠি ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর

শনিবার ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে এসআইআরের জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে ভোটারদের ‘দেশদ্রোহী’ তকমা সেঁটে দেওয়ার অভিযোগ তুললেন তিনি।

বঙ্গের ভোটারদের ‘দেশদ্রোহী’ তকমা  কমিশনের, ফের চিঠি ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে এসআইআরের জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে ভোটারদের ‘দেশদ্রোহী’ তকমা সেঁটে দেওয়ার অভিযোগ তুললেন তিনি। 

Advertisement

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর কাজ ‘সুষ্ঠু ভাবে’ চালাতে স্পেশাল রোল অবজার্ভার থেকে শুরু করে রোল অবজার্ভার, মাইক্রো অবজার্ভার, অবজার্ভার নামে একাধিক পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করেছে কমিশন। যাঁরা ঘুরছেন জেলায় জেলায়। শনিবারও নতুন করে ভিন রাজ্যের চারজন আইএএস অফিসারকে বাংলায় স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার হিসেবে নিযুক্ত করেছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে অবজার্ভার ইস্যুতে কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে চলেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কারণ, বিজেপিকে রাজনৈতিক ‘মাইলেজ’ পাইয়ে দিতে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে এসআইআরের শুনানি পর্বে অবজার্ভারদের একাংশ সাধারণ মানুষের গায়ে দেশদ্রোহী তকমা সেঁটে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কমিশনকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গঙ্গাসাগর মেলা চলাকালীন অবজার্ভারদের সুরক্ষার দেওয়ার চেয়ে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করাটা বেশি গুরুত্বপুর্ণ। 
এর আগে এসআইআর নিয়ে কমিশনের খামখেয়ালিপনা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে তিন বার চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেও মানুষের হয়রানি ঠেকাতে কমিশন নির্বিকার থাকাতে চতুর্থবারের জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। চিঠির মূল অংশের নীচে পেন দিয়ে আলাদা করে তিনি লিখে দিয়েছেন, ‘আমি জানি আপনি কোনও উত্তর দেবেন না। কিন্তু আমার কাজ আপনাকে বিষয়গুলি জানানো।’ 
নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, সাংসদ দেব, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং ভারত সেবাশ্রমের মহারাজদের শুনানিতে ডাকার বিরুদ্ধেও সরব হয়ে কমিশনের ‘স্পর্ধা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তবে এদিনের চিঠিতে লজিকাল ডিসক্রিপেনসির নামে বিশেষ করে বিবাহিতাদের হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়ার বিরোধিতা করে অবিলম্বে  ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 
নামের বানানকে ইস্যু করে হয়রানির উদাহরণ দিতে গিয়ে চিঠিতে নিজের নামের ভিন্ন বানান উদাহরন স্বরূপ তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআরকে সামনে রেখে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে টানা লড়াই চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্নবাণ ছুড়ে মমতা লিখেছেন, ‘কমিশনের এই অত্যাচারের জেরে সাধারণ মানুষের হয়রানির খেসারত কে দেবে?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ