বেঙ্গালুরু: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) আইপিএল জয়ের বিজয়োৎসবে পদপিষ্টের ঘটনা ও প্রাণহানির দায় কার? বিতর্ক থেকে গা বাঁচাতে ইতিমধ্যেই আরসিবি ও রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, এমনকী শীর্ষ পুলিসকর্তাদের কাঠগড়ায় তুলেছে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার। দায় ঠেলাঠেলির এই আবহেই এবার মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করল কর্ণাটকের রাজভবন। রাজভবনের একটি সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য রাজ্যপালকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। রাজভবনের এই দাবিতে স্বাভাবিকভাবেই কর্ণাটক সরকারের উপর চাপ বাড়ল। কারণ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার দাবি ছিল, বিধান সৌধের অনুষ্ঠানের আয়োজক রাজ্য সরকার ছিল না। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। রাজ্যপালকে তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। বিতর্কের মধ্যেই আরসিবি ইস্যুতে এদিন দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া ও উপ মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে তাঁদের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল হাইকমান্ড।
মুখ্যমন্ত্রী ও উপ মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লি সফরের মধ্যেই রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের উপর চাপ বেড়েছে রাজভবন সূত্রে উঠে আসা তথ্য থেকে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আরসিবির ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দিতে প্রাথমিকভাবে রাজভবনে একটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যপালকে জানানো হয়, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বিধান সৌধে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাজ্যপালকে। রাজভবন সূত্রে এহেন দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পদপিষ্টের ঘটনায় ১১ জনের প্রাণহানি নিয়ে মামলা গড়িয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্টে। এই ইস্যুতে মঙ্গলবার হাইকোর্ট জানিয়েছে, ১২ জুন পরবর্তী শুনানি হবে। এদিন রাজ্য সরকারের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল শশিকিরণ শেট্টি আদালতে বলেন, ঘটনার তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পেশের জন্য কমিশনকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিস অফিসারদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্তের প্রক্রিয়া জারি থাকায় আদালতের নির্দেশ মেনে মুখবন্ধ খামে সরকারের তরফে জবাব পেশের আর্জি জানান শেট্টি। তাঁর সেই আর্জি হাইকোর্ট মঞ্জুর করে ১২ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে। পাশাপাশি আরসিবির ধৃত বিপণন প্রধান নিখিল সোসালেকে এদিন কোনও অন্তর্বর্তী সুরাহা দিতে রাজি হয়নি হাইকোর্ট। তাঁর আবেদন নিয়ে রায়দান আগামী কাল পর্যন্ত স্থগিত করে দিয়েছে আাদলত। ঘটনার দু’দিন পর অর্থাৎ ৬ জুন এই আরসিবি কর্তাকে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলতে কর্ণাটক সরকার বেঙ্গালুরুর তৎকালীন পুলিস সুপার ডি দয়ানন্দ সহ মোট ৬ পুলিসকর্তাকে সাসপেন্ড করেছে। দয়ানন্দের জায়গায় নতুন পুলিস কমিশনার করা হয়েছে সীমান্ত কুমার সিংকে। দায়িত্বভার নিয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি, ৪ জুনের মতো ঘটনা শহরে আর ঘটবে না।