নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্যের একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যানকে পরিবর্তন করা হবে। মূলত পারফরমেন্সের ভিত্তিতেই পুরসভার চেয়ারম্যানদের এহেন পরিবর্তন করতে চলেছে তৃণমূল। মাসখানেকের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। দলের অভ্যন্তরে খবর, প্রশাসনিক কাজে যে পুরসভার চেয়ারম্যানরা সক্রিয় নন এবং এলাকায় জনভিত্তি নেই, তাঁদেরই বদল করা হবে। তৃণমূলের মূল্যায়ন, যদি পুরসভার চেয়ারম্যান ভালোভাবে কাজ করতেন, তাহলে ওই এলাকায় দলের ভোট কমত না। শহরাঞ্চলে যেখানে তৃণমূলের ভোট কমেছে, সেই পুরসভার চেয়ারম্যানরাই এবার দলের ‘স্ক্যানারে’।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলে নিরিখে দেখা গিয়েছে, শহরাঞ্চলের একাধিক জায়গায় তৃণমূলের ভোট কমেছে। গ্রামাঞ্চলে যেখানে মানুষ তৃণমূলের প্রতি উজাড় করা সমর্থন দিয়েছেন, সেখানে শহরের একাধিক পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের থেকে খানিক দূরত্ব বজায় রেখেছেন সেই এলাকার মানুষ। যদি পুরসভার চেয়ারম্যান-কাউন্সিলাররা ওই এলাকায় যথাযথ নাগরিক পরিষেবা দিয়ে থাকেন, তাহলে মানুষের তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা নয়। সেটা কেন ঘটল, এটাই দলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উঠে এসেছে। তৃণমূলের শীর্ষ মহল সূত্রে খবর, কাজের নিরিখে একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যানের উপর দল অসন্তুষ্ট। আগামী মাস খানেকের মধ্যে চেয়ারম্যান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তৃণমূল সুত্রে খবর। প্রাথমিকভাবে কোন পুরসভার চেয়ারম্যানরা ভাল কাজ করেননি, তার তালিকাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, পুরসভার চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে দেখা হয়েছে। প্রথমত, ওই পুরসভার চেয়ারম্যান এলাকার মানুষের সঙ্গে কতটা জনসংযোগ রাখেন। দ্বিতীয়ত, নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই চেয়ারম্যান কতটা দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে কি না! এই সামগ্রিক বিষয়গুলিই পর্যালোচনা করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তার প্রেক্ষিতেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল। বিধানসভা ভোটের আগে এবছরেই পুরসভা এলাকায় রদবদল করে একটা ঝাঁকুনি দিতে চাইছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূল নেতৃত্ব এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ব্যক্তি স্বার্থ নয়, মানুষের স্বার্থকে যাঁরা প্রাধান্য দিয়েছেন, গুরুত্ব বাড়বে সেই সমস্ত পুরসভার চেয়ারম্যানদের। তৃণমূলের অন্দরের খবর, যে সমস্ত কাউন্সিলর দলকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছেন, দলের কোপ অপেক্ষা করছে তাদের জন্যও। ‘কাউন্সিলর অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী পুরসভা নির্বাচনের আগেই কাউন্সিলরদের সম্পর্কিত সব বিষয় দেখেই টিকিট দেওয়া হবে। এবার এলাকার মানুষই ঠিক করবেন, পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের প্রার্থী কে হবেন।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত এসআইআর নিয়ে আগামী নভেম্বর মাস থেকে আন্দোলনে নামতে চলেছে তৃণমূল। উৎসব পর্ব মিটলেই লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি হবে। নভেম্বর মাস থেকে এই কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। আগামী ২ নভেম্বর শহিদ মিনারে তৃণমূলের তরফে একটি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু শহিদ মিনারে নভেম্বর তিন থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত একটি ধর্মীয় কর্মসূচি থাকায় তৃণমূল তার কর্মসূচির দিনক্ষণ পরিবর্তনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে। দু’তারিখে কলকাতার অন্য কোনও জায়গায় কর্মসূচি করা যায় কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে। নতুবা ১১ নভেম্বর কিংবা তার আশপাশের তারিখে কর্মসূচি পালন করা হবে। থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, সেটাই হবে তৃণমূলের মূল দাবি।