Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাছ লাগাতে টেন্ডার ডেকেও বাতিল! অন্ধকারে যৌথ বনসুরক্ষা কমিটি

গাছ লাগাতে টেন্ডার ডেকেও বাতিল! অন্ধকারে যৌথ বনসুরক্ষা কমিটি
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১৩:০৩
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: ‘বনসৃজন’ প্রকল্প বাস্তবায়িত করবেন যৌথ বন পরিচালন কমিটির সদস্যরাই। গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই টেন্ডার ডেকে ঠিকাদারদের এই কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। ২০১৯ সালের একটি নির্দেশিকায় একথা স্পষ্ট করে দেয় রাজ্য। যদিও সেই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষেও টেন্ডার ডেকেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে চেয়েছিল পুরুলিয়ার বনবিভাগের  আধিকারিকরা। যদিও পরে রাজ্যের তরফে সেই টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠছে, বনদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন তা লঙ্ঘন করতে গিয়েছিলেন পুরুলিয়া জেলার বনদপ্তরের আধিকারিকরা? কীসের স্বার্থে বন কমিটির সদস্যদের অন্ধকারে রেখে বনসৃজন প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন তাঁরা?  

Advertisement

পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ মানছেন, ‘অনেক সময়ে অনেক জায়গায় যৌথ বন পরিচালন কমিটির সদস্যরা থাকেন, অনেক সময়ে থাকেন না। টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। তারপর যেভাবে বনসৃজন করার কথা, তা করা হয়েছে।’ বনদপ্তর সূত্রের খবর, পুরুলিয়া জেলার পুরুলিয়া ডিভিশন, কংসাবতী উত্তর ও দক্ষিণ ডিভিশন এবং বনসম্প্রসারণ বিভাগের তরফে গত মে-জুন মাস নাগাদ টেন্ডার ডাকা হয়। অর্থাৎ, যেখানে বন কমিটির সদস্যদের যুক্ত করে যেখানে চারাগাছ লাগানোর কথা, সেখানে সেই দায়িত্ব কোনও ঠিকাদার সংস্থার কাঁধে দিয়ে দিতে চেয়েছিল বনদপ্তর। যদিও এনিয়ে ‘অরণ্য ভবন’-এর অনুমোদন না পেয়ে সেপ্টেম্বরে টেন্ডার বাতিল করা হয়। তারপর জেলাজুড়ে শুরু হয় বনসৃজন! অর্থাৎ, যেখানে বর্ষা শেষ হওয়ার আগে চারাগাছ লাগানোর কথা, সেখানে তা শুরুই হচ্ছে বর্ষার পর। ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে গাছ লাগানো হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বর্ষার গাছ শীতে লাগানো হলে সেই গাছ কি আদৌ বেঁচে আছে? এক্ষেত্রে তো সবুজায়নের মূল উদ্দেশ্যই তো বিঘ্নিত হচ্ছে।তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও প্রতি বছরই বনকমিটির সদস্যদের বঞ্চিত করে ঠিকাদারদের দিয়েই বনসৃজন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের রাজ্যের কড়া নির্দেশের পরেও! এনিয়ে ২০২১ সালের এনিয়ে হাইকোর্টে মামলাও হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিলে হাইকোর্ট একটি রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সরকারি নির্দেশ যা আছে, তাই বাস্তবায়িত করতে হবে। কিন্তু তারপরেও টেন্ডার ডেকে বনসৃজন করানো আদালত অবমাননা নয়? এনিয়ে অবশ্য রিভিউ পিটিশন করেছিল বনদপ্তর! যদিও তা বাতিল করে দেয় আদালত। প্রশ্ন উঠছে, বারংবার ‘বেনিয়মের’ চেষ্টা কেন করছেন পুরুলিয়া জেলার বনদপ্তরের আধিকারিকরা? শ্রমিকদের মজুরিতে ভাগ বসিয়ে নিজেদের পকেট ভরানোর চেষ্টা জন্যই কি মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাঁরা? 
জঙ্গল এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে বন কমিটি তৈরির উদ্দেশ্যই ছিল জঙ্গলের বিস্তার ঘটানো। জঙ্গলকে রক্ষা করা। সেই কারণেই বন কমিটিকে দিয়েই বনসৃজন করানোর কথা। এক্ষেত্রে, বন কমিটির সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করার কথা বনদপ্তরের আধিকারিকদের। বনসৃজন প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোন এলাকায় গাছ লাগানো হবে, কত টাকা মজুরি মিলবে, সেইসবও বন কমিটিকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা আধিকারিকদের। এনিয়ে রেজোলিউশন হওয়ারও কথা। কিন্তু সেসবের কোনও বালাই নেই পুরুলিয়ায়! তাই তো শ্রমিকরা জানেন না একেকটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রাপ্য মজুরি কত! 
এর আগেও বনদপ্তরের কাজে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। গত জানুয়ারিতেই আলিপুরদুয়ারের একটি সভায় তিনি শুনিয়েছিলেন, ‘ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট নিজেদের কী ভাবে ভগবান জানে! নিজেদের মতো প্ল্যান করে, নিজেদের মতো অ্যাকশন করে। সরকারকে জানাবে তো! এটা কি জমিদারি না কি? ফরেস্ট (বনদপ্তর) কি সরকারের বাইরে?’ মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের পরেও কিছুই যে বদলায়নি তা পুরুলিয়ার বনদপ্তরের এই কাজেই স্পষ্ট।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ