Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবসাদগ্রস্ত নাগরিকদের জন্য এবার ‘টেলি মানস’ পরিষেবা

ট্যাংরা, কসবার পর পূর্ব যাদবপুর! কলকাতা মহানগরীতে ক্রমশ বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা

অবসাদগ্রস্ত নাগরিকদের জন্য এবার ‘টেলি মানস’ পরিষেবা
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্যাংরা, কসবার পর পূর্ব যাদবপুর! কলকাতা মহানগরীতে ক্রমশ বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। কোভিডের পর থেকেই শহরে আত্মহত্যার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। আর্থিক অনটন আর হতাশা থেকেই এই প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এই প্রেক্ষাপটে ‘টেলি মানস’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে কলকাতা পুলিস। ‘ডিপ্রেশন’ বা অবসাদে ভোগা শহরবাসীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।  

Advertisement

‘টেলি মানস’-এর মাধ্যমে সাহায্যের জন্য দেওয়া হয়েছে একটি হেল্পলাইন নম্বর। সেটি হল ১৪৪১৬। এই নম্বরে ফোন করলেই একদল পেশাদার কাউন্সেলার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। এরকম একজন কাউন্সেলারের কথায়, ‘মানসিক হতশা ও অবসাদে ভোগা কেউ আমাদের এই হেল্পলাইনে ফোন করলে প্রথমে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তাঁর নাম-ঠিকানা জেনে নেওয়া হয়। তারপর ধীরে ধীরে তাঁর সমস্যার কথা শোনা হয়। শেষে সমাধানের পথ দেখানো হয়। পরবর্তী পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট কাউন্সেলার ফোন করে ওই ব্যক্তির খোঁজখবর নেন।’ কিন্তু যদি দেখা যায়, ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা মানুষটির মানসিকভাবে খুবই  বিধ্বস্ত, আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন! সেক্ষেত্রে কাউন্সেলার এমন কোনও আঁচ পেলেই নিকটবর্তী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করছেন। 
কলকাতা পুলিস সূত্রে খবর, ‘টেলি মানস’ কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা একটি প্রকল্প। গত বছর অক্টোবর মাসে এটি চালু করে কেন্দ্র। কলকাতা পুলিস সদ্য এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতা পুলিস একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে শহরজুড়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল। শহরের কোন এলাকায় কী কী কারণে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে, তার একটা প্রতিফলন উঠে আসে সেই সমীক্ষায়। পাশাপাশি, লালবাজার কলকাতার সব থানার ওসির কাছ থেকে মানসিক অবসাদ সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করে, এমন এনজিওগুলির তালিকা সংগ্রহ করে। পুলিস জানিয়েছে, ‘টেলি মানস’ –এর  হেল্পলাইন নম্বরটি ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। কিন্তু অনেকে মনে করছেন, শহরের সিংহভাগ মানুষ বাংলা ভাষাভাষী হলেও আইভিআর-এ প্রথমে  ইংরেজি, তারপর হিন্দি এবং সবশেষে বাংলার ঠাঁই হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ