তেহরান: আরও তীব্র হচ্ছে ইরানের বিক্ষোভ। মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের ইস্যুতে খামেনেইর বিরুদ্ধে তেহরানের রাজপথে জনরোষ আছড়ে পড়েছিল। ক্রমেই তা ইরানের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাতভর আন্দোলনে শামিল সমাজের সর্বস্তরের লোকজন। পরিস্থিতির সামাল দিতে কড়া হাতে দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এর জেরে এপর্যন্ত ১১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। হাসপাতালগুলিতে ক্রমে বাড়ছে লাশের সংখ্যা। আটক প্রায় ২৬০০ জন। এই অস্থির অবস্থায় দেশজুড়ে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। এরইমাঝে ইরান ইস্যুতে নাক গলিয়েছেন ট্রাম্প। তারপরই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ শানিয়েছেন খামেনেই। তাঁর বক্তব্য, বিদেশি শক্তির আগ্রাসন সহ্য করবে না ইরানের মানুষ। ট্রাম্পের নির্দেশে এর আগে হাজারেরও বেশি ইরানবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর হাতে ইরানের মানুষের রক্ত লেগে আছে। আর এখন তিনি বলছেন, ইরানের মানুষের সঙ্গে রয়েছেন! হামলা হলে আমেরিকার সঙ্গে ইজরায়েলকেও ছেড়ে কথা বলা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে বড়োসড় পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইরান। এক্ষেত্রে সাহায্য করতে প্রস্তুত আমেরিকা। বিষয়টি কানে পৌঁছতেই পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এনিয়ে সে দেশের সংসদে উত্তেজনা ছড়ায়। স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সাফ বার্তা, আমেরিকা হামলা চালালে চুপ করে বসে থাকবে না ইরান। একযোগে আমেরিকা ও ইজরায়েলের উপর হামলা চালানো হবে। অধিবেশনের মাঝে স্লোগান ওঠে—‘ডেথ টু আমেরিকা।’
এরইমধ্যে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের ক্ষমতাচ্যুত রাজা তথা শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভির পুত্র রেজা পাহলভি। নির্বাসিত যুবরাজের বক্তব্য, ‘আপনারা রাজপথ ছাড়বেন না। শীঘ্রই আপনাদের পাশে দাঁড়াব। রাতের পর রাত এভাবে রাস্তায় আপনাদের উপস্থিতি খামেনেইয়ের দমনমূলক শাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। আমি খবর পেয়েছি, বিক্ষোভরত লক্ষ লক্ষ মানুষের মোকাবিলা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে ইসলামিক সরকার। ওদের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী নেই। সশস্ত্র বাহিনীর অনেক সদস্য তাঁদের কর্মস্থল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। অনেকে আবার বিক্ষোভ দমনের নির্দেশ অমান্য করছেন। এখন খামেনেইর কাছে শুধু একটি কট্টরপন্থী, হিংস্র ভাড়া করা সৈনিক গোষ্ঠী রয়েছে। তারা ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে।’