নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উন্নত প্রযুক্তির গাড়ি চুরি ঠেকানোও দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গাড়িতে একের পর এক বৈশিষ্ট্য যোগ হচ্ছে এবং পুলিসও নিচ্ছে নিত্যনতুন কৌশল। অন্যদিকে ঝানু গাড়ি চোররাও সেসব ভেদ করছে দ্রুত এবং অনায়াসে। আর এই কায়দায় পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে খান পঞ্চাশেক গাড়ি হাতিয়েছে একটি গ্যাং।
গাড়ি চুরি রুখতে একের পর এক নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ হয়েছে বিভিন্ন গাড়িতে। ‘হাই ভ্যালু কারের’ সুরক্ষা ভাঙতে গাড়ি চোরেরাও নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। গাড়ির দখল নিতে তারা যেভাবে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে তাতে ঘুম ছুটেছে রাজ্য পুলিসের অফিসারদের। হাইটেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের গাড়ি চুরির চক্র বাংলা থেকে একের পর দামি দামি গাড়ি হাতিয়ে পালাচ্ছে। যা খুঁজতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। প্রযুক্তিবিদ্যায় দক্ষ গাড়ি চোরদের দাপট রুখতে পুলিসকেও নিত্য নতুন কৌশল তৈরি করতে হচ্ছে।
বিভিন্ন জেলায় বিগত কয়েকমাস গাড়ি চুরির অভিযোগে ডজন খানেকের বেশি অভিযুক্ত ধরা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইক চুরির গ্যাং ও নতুন প্রযুক্তির বিলাসবহুল গাড়ি চুরির চক্র। ধৃতদের সিংহভাগই বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, গাড়ি চুরির ধরন পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। লক ভাঙা সিস্টেম এখন অতীত। নতুন সমস্ত গাড়িই উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি। তাই তাদেরও এখনও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হচ্ছে। এই কারণে ঝাড়খণ্ডের গিরিডি, দেওঘর এবং বিহারের গয়া, ছাপরা, ফুলওয়ারিশরিফ সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্রাশ কোর্সের খুলে বসেছে গাড়ি চোরাই গ্যাংয়ের পান্ডারা। সেখানে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসে রীতিমতো বোঝানো হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ির বৈশিষ্ট্য কী রয়েছে। ওই সিস্টেম কে কীভাবে হ্যাক করতে হবে তা শেখাচ্ছেন ওই ইঞ্জিনিয়াররাই। হাতেকলমে প্রশিক্ষণ হচ্ছে। এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত চলছে ট্রেনিং। তারপর অপারেশনে নামছে দুষ্কৃতী দলের সদস্যরা।
কীভাবে গাড়ি চুরির চক্র নতুন মডেলের গাড়ি হাতাচ্ছে? বিহার-ঝাড়খণ্ডের গাড়ি চোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জানিয়েছে, প্রতিটি গাড়ির উইন্ডশিল্ডে বার কোড থাকে। যার সাহায্যে গাড়ি আনলক করা যায়। ওই বার কোড স্ক্যান করে তা পাঠিয়ে দিচ্ছে দুবাইতে। সেখানে বসে রয়েছে সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞরা। তারা কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই কোড ডিঅ্যাক্টিভেট করে নতুন কোড তৈরি হচ্ছে। সেটি ব্যবহার করে গাড়ি আনলক করা হচ্ছে। বিলাসবহুল গাড়িতে অনবোর্ড ডায়াগনস্টিক পোর্ট (ওবিডি) থাকে, যার মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়াররা গাড়ির ইঞ্জিন থেকে অন্য কোনও সিস্টেমে ঢুকে পরীক্ষা করে দেখেন গাড়িটিতে কী সমস্যা রয়েছে। এই ওবিডি বোর্ডকে ক্লোন করে ফেলছে গাড়ি চুরির গ্যাং। তাতে নিজস্ব সফটওয়্যার ঢুকিয়ে গাড়ি স্টার্ট করে পালিয়ে যাচ্ছে। আর পালানোর সময় গাড়ির ইনবিল্ট জিপিএস সিস্টেমকে অকেজো করে দেওয়া হচ্ছে সিগন্যাল জ্যামার দিয়ে। তার ফলে গাড়িটি মালিকের মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও জানা যাচ্ছে না গাড়ির গতিবিধি। এহেন হাইটেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়ি চুরি দেখে তাজ্জব তদন্তকারী অফিসাররা। এই কায়দায় পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে খান পঞ্চাশেক গাড়ি হাতিয়েছে এই গ্যাং। পুরো সিস্টেমকে বদলে ফেলে সেগুলি বিক্রি করে দিয়েছে। সেগুলির হদিশ করার চেষ্টা চলছে।