Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বোলারদের ব্যর্থতায় ডুবল টিম ইন্ডিয়া

জঘন্য বোলিং। কুৎসিত ফিল্ডিং। উদ্ভাবনী ক্ষমতাহীন নেতৃত্ব। নিউজিল্যান্ডের কাছে বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে সাত উইকেটে পরাজয়ের কারণ এগুলোই। পরিণতি, মনের সুখে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে গেলেন ড্যারিল মিচেল। ১১৭ বলে তাঁর অপরাজিত ১৩১ রানই তফাত গড়ে দিল।

বোলারদের ব্যর্থতায় ডুবল টিম ইন্ডিয়া
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজকোট: জঘন্য বোলিং। কুৎসিত ফিল্ডিং। উদ্ভাবনী ক্ষমতাহীন নেতৃত্ব। নিউজিল্যান্ডের কাছে বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে সাত উইকেটে পরাজয়ের কারণ এগুলোই। পরিণতি, মনের সুখে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে গেলেন ড্যারিল মিচেল। ১১৭ বলে তাঁর অপরাজিত ১৩১ রানই তফাত গড়ে দিল। অন্যদিকে, বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের লড়াকু শতরান। তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ এখন ১-১। রবিবার ইন্দোরে সিরিজের ফয়সালার দিকেই তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

Advertisement

২৮৫ রানের টার্গেট তাড়া করে কিউয়িদের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। দুই ওপেনার দ্রুত ফেরেন। কিন্তু এরপরই উইল ইয়ংকে পাশে নিয়ে ম্যাচে জাঁকিয়ে বসেন মিচেল। তাঁদের তৃতীয় উইকেটের জুটি ক্রমশ লম্বা হতে থাকে। ১৫২ বলে দু’জনে যোগ করেন ১৬২। এই সময়ই ধরা পড়ে ভারতীয় বোলিংয়ের অসহায়তা। কুলদীপ যাদবকে বরোদাতে গত ম্যাচেও সাদামাটা দেখিয়েছিল। এদিন তাঁর দুর্দশা কয়েকগুণ বাড়ল। চায়নাম্যান দিলেন ৮২ রান। রবীন্দ্র জাদেজা, হর্ষিত রানা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, মহম্মদ সিরাজরাও তথৈবচ। পাল্লা দিল ফিল্ডিংও। জাদেজার মতো ফিল্ডার বল গলালেন, সামনে থেকে স্টাম্পে থ্রো করতে পারলেন না। পড়ল সহজ ক্যাচ। ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছে সফরকারী দল। ক্যাপ্টেন গিলকে চাপের মুখে হতভম্ব দেখাল। কোনও প্ল্যান বি নেই, কিউয়িদের ভুলের অপেক্ষায় থাকলেন তিনি। মিচেলরা তাই একসময় ছেলেখেলাই করলেন ভারতীয় বোলিং নিয়ে। অথচ, এই মাঠে আগের চারটি ম্যাচেই জিতেছিল প্রথমে ব্যাট করা দল!
‘ক্রাইসিস ম্যান’ রাহুলের সেঞ্চুরি সেজন্যই দাম পেল না। অথচ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে ভরসা জোগানো নিয়মে পরিণত করে তুলেছেন ৩৩ বছর বয়সি ব্যাটার। এদিন ক্রিজে যখন এসেছিলেন, টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারত প্রবল চাপে। ২১.৩ ওভারে ১১৫ রানে পড়েছে তিন উইকেট। ভালো শুরু করেও ফিরেছেন রোহিত শর্মা। ছন্দে দেখানো ক্যাপ্টেন শুভমান গিল পঞ্চাশ পেরিয়ে থমকে গিয়েছেন। হাঁসফাঁস করতে থাকা শ্রেয়সও আউট। রাহুল নামার দু’ওভারের মধ্যেই মেজাজে থাকা বিরাট কোহলি ধরেন ড্রেসিং-রুমের পথ। ১১৮-৪, থমথমে স্টেডিয়ামে প্রাণ ফেরান রাহুল। তিনিই ভারতকে পৌঁছে দেন ২৮৪ রানে। 
পরিসংখ্যান অনুসারে কেএল ক্রিজে আসার পর উঠেছে ১৬৯ রান। এরমধ্যে তাঁরই অপরাজিত ১১২। কার্যত একার কাঁধেই দলকে টানলেন তিনি। অন্যথায়, আ‌ড়াইশো তো দূর, দুশোও কুয়াশায় ঘেরা দেখাচ্ছিল। ৮৭ বলে অষ্টম ওডিআই শতরান পূর্ণ করে মুখে আঙুল দিয়ে সেলিব্রেশনে মেতে ওঠা রাহুলই স্বস্তির স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছিলেন দলকে। উল্লেখ্য, পাঁচ নম্বরে এটা তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। কেন তাঁকে ছয়ে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, কোচ গৌতম গম্ভীর নিশ্চয়ই তা এদিন উপলব্ধি করলেন! শেষ পর্যন্ত অবশ্য বোলারদের অপদার্থতায় ট্র্যাজিক হিরো হয়েই মাঠ ছাড়তে হল কেএল’কে।
স্কোরবোর্ড: ভারত- রোহিত ক ইয়ং বো ক্লার্ক ২৪, গিল ক মিচেল বো জেমিসন ৫৬, বিরাট বো ক্লার্ক ২৩১, শ্রেয়স ক ব্রেসওয়েল বো ক্লার্ক ৮, রাহুল অপরাজিত ১১২, জাদেজা ক ও বো ব্রেসওয়েল ২৭, নীতীশ ক ফিলিপস বো ফোকস ২০, হর্ষিত ক ব্রেসওয়েল বো লেনক্স ২, সিরাজ অপরাজিত ২, অতিরিক্ত ১০, মোট (৫০ ওভারে) ২৮৪-৭। উইকেট পতন: ১-৭০, ২-৯৯, ৩-১১৫, ৪-১১৮, ৫-১৯১, ৬-২৪৮, ৭-২৫৬। বোলিং: জেমিসন ১০-২-৭০-১, ফোকস ৯-০-৬৭-১, ক্লার্ক ৮-০-৫৬-৩, লেনক্স ১০-০-৪২-১, ব্রেসওয়েল ১০-১-৩৪-১, ফিলিপস ৩-০-১৩-০।
নিউজিল্যান্ড- কনওয়ে বো হর্ষিত ১৬, নিকোলস বো প্রসিদ্ধ ১০, ইয়ং ক নীতীশ বো কুলদীপ ৮৭, মিচেল অপরাজিত ১৩১, ফিলিপস অপরাজিত ৩২, অতিরিক্ত ১০, মোট (৪৭.৩ ওভারে) ২৮৬-৩। উইকেট পতন: ১-২২, ২-৪৬, ৩-২০৮। বোলিং: সিরাজ ৯-০-৪১-০, হর্ষিত ৯.৩-১-৫২-১, প্রসিদ্ধ ৯-০-৪৯-১, নীতীশ ২-০-১৩-০, জাদেজা ৮-০-৪৪-০, কুলদীপ ১০-০-৮২-১। 
 নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী। তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১। 
 ম্যাচের সেরা ড্যারিল মিচেল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ