শরদিন্দু মুখার্জি: এক বছরের মধ্যে দেশের মাটিতে দুটো হোয়াইটওয়াশ। গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে টিম ইন্ডিয়ার এই পদস্খলন বড়ই লজ্জার। শুধু একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার বলে নয়, ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবেও আমার হৃদয় রক্তাক্ত। একটা সময় বলা হতো, ভারতীয় ক্রিকেটাররা ঘরের মাঠে বাঘ। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে বাঘের গর্জনই শুনতেই পেলাম না। বেড়ালের মতো ল্যাজ গুটিয়ে পালাতে হল আমাদের ক্রিকেটারদের। এই চরম ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত জরুরি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম, ক্ষোভে ফুটছে গোটা দেশ। সেটাই প্রত্যাশিত। প্রায় সকলের একটাই দাবি, অবিলম্বে গৌতম গম্ভীরকে কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। আমার মনে হয় না, তেমন কিছু এখনই হবে। আপাতত ভারতের নেই আর কোনও টেস্ট সিরিজ। ছাব্বিশের আগস্টে শ্রীলঙ্কা সফর। তাই লাল-বলে টিম ইন্ডিয়ার এই কলঙ্কিত অধ্যায় ধীরে ধীরে ধামা চাপা পড়ে যাবে। সব ভুলে আমরা আবার মেতে উঠব আইপিএল নিয়ে। এটাই দস্তুর। আগামী বছর দেশের মাটিতে রয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ। গম্ভীরের চাকরি না যাওয়ার পিছনে সেটাও বড় কারণ হতে পারে। তবে একটা ঝাঁকুনি দরকার। ভিন্ন ফরম্যাটের জন্য যদি আলাদা আলাদা ক্রিকেটার থাকতে পারে, তাহলে কোচ নয় কেন? সাদা বলের ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীর সফল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপ জিতেছে। আইপিএলের কেকেআরকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওর ম্যাচ রিডিং ভালো। কিন্তু লাল বলে অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটের জন্য গোতি মোটেও উপযুক্ত নয়। ওকে সরিয়ে দ্রাবিড়, লক্ষ্মণ কিংবা টেস্ট স্পেশ্যালিস্ট কোনও প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কোচ করা হোক। তাতে দলেরই মঙ্গল।
ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের এই ভরাডুবির দায় নির্বাচকরা কি এড়াতে পারেন? বিশেষ করে অজিত আগকরের কথা বলব। রোহিত কোহলি, অশ্বিন, সামির মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের একসঙ্গে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত ভুল। ট্রানজিশন পর্বে ধীরে ধীরে ব্যাটনের হাত বদল হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট তাড়াহুড়ো করেছে। সেই সব তরুণদের উপর বেশি ভরসা রেখেছে, যাদের লাল বলে খেলার মানসিকতাই গড়ে ওঠেনি এখনও। তিন নম্বর পজিশন নিয়ে রীতিমতো সার্কাস চলেছে। গিলের পরিবর্তে গুয়াহাটি টেস্টে নেওয়া হল নীতীশ রেড্ডিকে । কিন্তু সে কি না ব্যাট করল আট নম্বরে। তাহলে তো স্পেশালিস্টের কোনও প্রয়োজনই পড়ত না!
এখনও সময় আছে। ভুল শুধরে বাকি সিরিজগুলিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে লাল বলে যারা ভালো পারফর্ম করছে, তাদের সুযোগ দিলে এই দিন হয়তো দেখতে হতো না। করুণ নায়ার, অভিমন্যু ঈশ্বরণদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। সরফরাজ খানকে টেস্ট দলে ফিরিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করুন নির্বাচকরা। দরকার ঋতুরাজকেও। দেশের সম্মান রক্ষার জন্য বিরাট কোহলিকেও ফেরার অনুরোধ করা যেতে পারে।