নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকার আয়করের ক্ষেত্রে যে নতুন ট্যাক্স কোড আনছে, সেখানে উৎস্যমূলে কর কেটে নেওয়া বা টিডিএসের ক্ষেত্রে নিয়মের গেরো অনেকটাই হালকা করা হচ্ছে। টিডিএস সংক্রান্ত নিয়ম অর্ধেক হতে চলেছে বলে জানালেন আয়কর দপ্তরেরে কলকাতা জোনের চিফ কমিশনার মায়াঙ্ক প্রিয়দর্শী। মঙ্গলবার ক্যালকাটা চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যেটুকু জানা গিয়েছে, তাতে টিডিএস সংক্রান্ত নিয়মাবলিতে শব্দসংখ্যা ১৪ হাজার থেকে কমিয়ে সাত হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে।’ তার ফলে আয়করের নিয়ম বা বিধি মেনে চলা অনেক সহজ হবে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিন চিফ কমিশনার বলেন, ‘আয়কর কাঠামোয় যেমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, করের হারের বদল করা হয়েছে করদাতাদের স্বার্থে, তেমনই টিডিএসের হারেও বদল আনা হয়েছে ও সরলীকরণ হয়েছে। কোথাও কোথাও সেই হার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।’
তাঁর দাবি, ‘আয়কর দপ্তর টিডিএসের হার ও নিয়মের সরলীকরণ নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করছে। ১০ বছর আগে যেখানে মোট আদায় করা করের ৩০ শতাংশ দখলে রেখেছিল টিডিএস, তা এখন বেড়ে ৪৫ শতাংশে পোঁছেছে। এই ক’বছরে আরও বেশি সংখ্যক লেনদেনকে টিডিএসের আওতায় আনা গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।’ তার দরুন বৈধ লেনদেনের সংখ্যাও বাড়ানো গিয়েছে বলে জানান তিনি। চিফ কমিশনার আরও বলেন, ‘জিএসটি এবং টিডিএস ব্যবস্থার কারণেই বৈধ লেনদেনের সংখ্যা বাড়ানো গিয়েছে।’ তবে টিডিএস সংক্রান্ত কিছু সমস্যাও যে সামনে এসেছে, তা স্বীকার করেন তিনি। চিফ কমিশনার বলেন, ‘একটা সময় টিডিএস সংক্রান্ত নথি কাগুজে ছিল। পরবর্তীকালে তা অনলাইন সিস্টেমে চলে আসে। কিন্তু কাগুজে নথির সঙ্গে ডিজিটাল বা অনলাইন নথির মেলবন্ধন সবসময় সম্ভব হয়নি। সেই কারণে জটিলতা বেড়েছে। সুষ্ঠু পরষেবা দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হচ্ছে। পাশাপাশি আইন বা নিয়মের জটিলতাও কখনও কখনও কর নির্ধারণে সমস্যা করছে।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও পণ্য কেনার সময় যদি ডিসকাউন্ট বা ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে আয়কর আইনে তাকে কমিশন হিসেবে ধরা হয়। এই ধারণাগুলি করদাতা ও কর আদায়কারীর মধ্যে তফাত তৈরি করে এবং আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়।’ তবে আয়কর দপ্তর এই সমস্যা সুষ্ঠুভাবে সমাধানেরই চেষ্টা করে বলে দাবি করেছেন মায়াঙ্ক প্রিয়দর্শী।