মাদ্রাজের এগমোর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছালে দেখা গেল হাজার হাজার ব্যক্তি স্বামীজীকে স্বাগত জানাবার জন্য সেখানে সমবেত হয়েছেন। তিনি মাদ্রাজে আসবেন জেনেই নগরবাসীরা তাঁর সংবর্ধনার সমূচিত ব্যবস্থায় নিরত হয়েছিল; মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি শ্রীযুক্ত সুব্রহ্মণ্য আয়ার প্রভৃতি সম্ভ্রান্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এই কার্যের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং আয়ার মহাশয়ের সভাপতিত্বে একটি অভ্যর্থনা সমিতি গঠিত হয়েছিল। এই সমিতি স্বামীজীর আগমন-বার্তা ও তাঁর বাণী সারা শহরে প্রচার করেছিলেন। নির্দিষ্ট দিনে ঐ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের রাজা, ভূমধ্যকারী, মিউনিসিপ্যালিটির সভ্য ও বিভিন্ন সভাসমিতির সদস্যাদি নগরে উপস্থিত হয়েছিলেন। নগরের বিভিন্ন অঞ্চলে সতেরটি বিজয়তোরণ নির্মিত হয়েছিল, কদলীবৃক্ষ ও নারিকেলবৃন্ত রোপিত হয়েছিল এবং পত্রপুষ্প, পতাকা ও শৃঙ্খলাদিতে সজ্জিত হয়ে নগরটি অপূর্ব শ্রী ধারণ করেছিল। দ্বারে দ্বারে পুষ্পমাল্য দুলছিল এবং বিচিত্র বর্ণের পতাকা উড়ছিল। স্থানে স্থানে উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা ছিল, “পূজনীয় বিবেকানন্দ দীর্ঘজীবী হউন”, “স্বাগত হে ভগবৎসেবক”, “স্বাগত প্রাচীন ঋষিগণসেবক”, “প্রবুদ্ধ ভারতের হার্দিক সংবর্ধনা”, “স্বামী বিবেকানন্দ সুস্বাগত”, “এস শান্তির অগ্রদূত”, “এস শ্রীরামকৃষ্ণের উপযুক্ত সন্তান”, “স্বাগত নরেন্দ্র”। সংস্কৃত শ্লোকাবলীর মধ্যে ছিল “একং সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্তি”। কয়েকদিন পূর্ব হতেই সংবর্ধনা সমিতিগুলি কাজে লেগেছিল এবং তাঁর সম্বন্ধে ও তাঁর অভ্যর্থনার জন্য যে বিপুল আয়োজন চলছিল সেই বিষয়ে মাদ্রাজের সংবাদপত্রগুলি মুখর হয়ে উঠেছিল। তাঁর আগমনের দিনে ‘দি হিন্দু’, ‘দি মাদ্রাজ মেল’ প্রভৃতি পত্রিকার প্রতিনিধিরা চিঙ্গলপেট স্টেশনে ট্রেনে উঠে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন। ‘মাদ্রাজ টাইমস’-এ লেখা হয়েছিল:


