Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

স্বামীজী

মাদ্রাজের এগমোর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছালে দেখা গেল হাজার হাজার ব্যক্তি স্বামীজীকে স্বাগত জানাবার জন্য সেখানে সমবেত হয়েছেন।

স্বামীজী
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মাদ্রাজের এগমোর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছালে দেখা গেল হাজার হাজার ব্যক্তি স্বামীজীকে স্বাগত জানাবার জন্য সেখানে সমবেত হয়েছেন। তিনি মাদ্রাজে আসবেন জেনেই নগরবাসীরা তাঁর সংবর্ধনার সমূচিত ব্যবস্থায় নিরত হয়েছিল; মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি শ্রীযুক্ত সুব্রহ্মণ্য আয়ার প্রভৃতি সম্ভ্রান্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এই কার্যের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং আয়ার মহাশয়ের সভাপতিত্বে একটি অভ্যর্থনা সমিতি গঠিত হয়েছিল। এই সমিতি স্বামীজীর আগমন-বার্তা ও তাঁর বাণী সারা শহরে প্রচার করেছিলেন। নির্দিষ্ট দিনে ঐ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের রাজা, ভূমধ্যকারী, মিউনিসিপ্যালিটির সভ্য ও বিভিন্ন সভাসমিতির সদস্যাদি নগরে উপস্থিত হয়েছিলেন। নগরের বিভিন্ন অঞ্চলে সতেরটি বিজয়তোরণ নির্মিত হয়েছিল, কদলীবৃক্ষ ও নারিকেলবৃন্ত রোপিত হয়েছিল এবং পত্রপুষ্প, পতাকা ও শৃঙ্খলাদিতে সজ্জিত হয়ে নগরটি অপূর্ব শ্রী ধারণ করেছিল। দ্বারে দ্বারে পুষ্পমাল্য দুলছিল এবং বিচিত্র বর্ণের পতাকা উড়ছিল। স্থানে স্থানে উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা ছিল, “পূজনীয় বিবেকানন্দ দীর্ঘজীবী হউন”, “স্বাগত হে ভগবৎসেবক”, “স্বাগত প্রাচীন ঋষিগণসেবক”, “প্রবুদ্ধ ভারতের হার্দিক সংবর্ধনা”, “স্বামী বিবেকানন্দ সুস্বাগত”, “এস শান্তির অগ্রদূত”, “এস শ্রীরামকৃষ্ণের উপযুক্ত সন্তান”, “স্বাগত নরেন্দ্র”। সংস্কৃত শ্লোকাবলীর মধ্যে ছিল “একং সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্তি”। কয়েকদিন পূর্ব হতেই সংবর্ধনা সমিতিগুলি কাজে লেগেছিল এবং তাঁর সম্বন্ধে ও তাঁর অভ্যর্থনার জন্য যে বিপুল আয়োজন চলছিল সেই বিষয়ে মাদ্রাজের সংবাদপত্রগুলি মুখর হয়ে উঠেছিল। তাঁর আগমনের দিনে ‘দি হিন্দু’, ‘দি মাদ্রাজ মেল’ প্রভৃতি পত্রিকার প্রতিনিধিরা চিঙ্গলপেট স্টেশনে ট্রেনে উঠে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন। ‘মাদ্রাজ টাইমস’-এ লেখা হয়েছিল:

Advertisement

“গত কয়েক সপ্তাহ ধরিয়া মাদ্রাজের হিন্দু জনসাধারণ বিশ্ববিশ্রুত হিন্দু-সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের প্রতীক্ষা করিতেছিল। এক্ষণে প্রত্যেক ব্যক্তির মুখেই তাঁহার নাম শুনিতে পাওয়া যায়। কি বিদ্যালয়ে, কি মহাবিদ্যালয়গুলিতে, কি হাইকোর্টে, কি ম্যারিনাতে অথবা রাজপথে ও বাজারে—সর্বত্র দেখা যায় শত শত ব্যক্তি সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করিতেছে, ‘স্বামী বিবেকানন্দ কখন আসবেন?’ মফঃস্বল হইতে যেসব ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিতে আসিয়াছিল, তাহারা স্বামীজীর অপেক্ষায় এখানেই থাকিয়া গিয়াছে এবং ছুটিতে বাড়ি ফিরিয়া যাইবার জন্য অভিভাবকদের জরুরী পত্র পাইয়াও এখানে থাকিয়া আহারাদির জন্য খরচের মাত্রা বাড়াইতেছে। যেভাবে স্বামীজী এই প্রদেশের অন্যত্র সংবর্ধিত হইয়াছেন, যেভাবে এখানে আয়োজন চলিতেছে, যেভাবে ক্যাসল কার্নানে বিজয়-তোরণ প্রস্তুত হইতেছে, যেভাবে হিন্দু জনসাধারণের ব্যয়ে এই ‘ভগবৎ-প্রেরিত ব্যক্তি’কে এই ক্যাসলে রাখার ব্যবস্থা হইতেছে এবং যেভাবে মাননীয় শ্রীযুক্ত সুব্রহ্মণ্য আয়ারের ন্যায় নেতৃস্থানীয় হিন্দুভদ্রলোকগণ এই আয়োজনাদিতে আগ্রহ দেখাইতেছেন, তাহাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নাই যে, স্বামীজী বিপুলভাবে সংবর্ধিত হইবেন। মাদ্রাজই সর্বপ্রথম স্বামীজীর অনুপম প্রতিভা আবিষ্কার করিয়াছিল এবং তাঁহার শিকাগো গমনের ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছিল। যিনি স্বীয় জন্মভূমির সম্মানবৃদ্ধিকল্পে এরূপ দুঃসাধ্যসাধন করিয়াছেন, সেই সর্বজনসমাদৃত মহাপুরুষকে সম্মানিত করিবার সুযোগও মাদ্রাজ আবার পাইবে। 
স্বামী গম্ভীরানন্দের ‘আমার সমরনীতি’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ