Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নেট রান রেটের আতঙ্ক নিয়েই চেন্নাইয়ে সূর্যরা, ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে, সুপার এইটে প্রবল চাপে ভারত

সাফল্যের শিখর থেকে এক ঝটকায় বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ৭৬ রানে দুরমুশ হয়ে প্রবল চাপে ভারত।

নেট রান রেটের আতঙ্ক নিয়েই চেন্নাইয়ে সূর্যরা, ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে, সুপার এইটে প্রবল চাপে ভারত
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সুকান্ত বেরা, চেন্নাই: সাফল্যের শিখর থেকে এক ঝটকায় বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ৭৬ রানে দুরমুশ হয়ে প্রবল চাপে ভারত। আমেদাবাদ থেকে চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সূর্যকুমারদের শরীরী ভাষাই বলে দিচ্ছিল, মানসিকভাবে তাঁরা এখনও কতটা বিধ্বস্ত। সেটাই স্বাভাবিক। খেতাব ধরে রাখার লক্ষ্যে ঘরের মাঠে টি-২০ বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু রবিবার মোতেরা স্টেডিয়ামে লজ্জার হারের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সূর্যরা কি আদৌ সেমি-ফাইনালে উঠতে পারবেন?

Advertisement

খেলায় হার জিত থাকে। তাই বলে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ! হারের ব্যবধান এতটাই বেশি যে, ভারতের রান রেট দাঁড়িয়েছে -৩.৮। আর দক্ষিণ আফ্রিকা ঠিক তার উলটো। প্রশ্ন উঠছে, ম্যাচ যখন হাত থেকে বেরিয়েই গিয়েছিল, তখন কোচ গম্ভীর কেন মাঠে বার্তা পাঠালেন না যে, পুরো ২০ ওভার খেলেই ফেরো! ব্যবধানটা যথাসম্ভব কমাও। এখন পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে বাকি দু’টি ম্যাচে শুধু জিতলেই চলবে না, রীতিমতো বড় ব্যবধানে হারাতে হবে জিম্বাবোয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আর চিপকে পরের ম্যাচে জিম্বাবোয়ের কাছে হারলে তো কথাই নেই। মেরিনা বিচের ধারেই স্বপ্নের অন্তর্জলী যাত্রা সম্পন্ন হয়ে যাবে টিম ইন্ডিয়ার। 
ম্যাচ শেষে টিম ইন্ডিয়ার সহকারী কোচ রায়ান ডয়েশকাটের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন ভেসে এল, অক্ষর প্যাটেলকে কেন খেলানো হল না? তিনি শুধু দক্ষ অলরাউন্ডারই নন, ভাইস ক্যাপ্টেনও। নানা ছেঁদো যুক্তি খাড়া করলেন ডয়েশকাটে। আসলে এই কারণেই তো তাঁকে গম্ভীরের সহকারী হিসেবে রাখা। নিপাট এক ভদ্রলোককে পাঠিয়ে দেওয়া হয় দলের বিপর্যয়ের পর গোলাগুলি সামলাতে। তবে এই লজ্জার হারের জন্য কি অক্ষরের না খেলাটাই একমাত্র কারণ? একেবারেই না। এনগিডি, জানসেন, মহারাজদের বিরুদ্ধে যেরকম ব্যাটিং করেছে ভারত, তাতে ক্রিকেট দেবতা এলেও দলকে বাঁচাতে পারতেন না। সমস্যাটা যখন নিজেদের তৈরি করা, তখন সেই রোগ অন্য কারও পক্ষে সারানো অসম্ভব। সত্যি বলতে কী, এই ভারতীয় দলের ব্যাটারদের মনোবল একেবারে তলানিতে। তার জন্য নির্বাচকরাও কম দায়ী নন। বিশেষ করে নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর। এখন বোঝা যচ্ছে, শুভমান গিলকে স্কোয়াডে রাখা কতটা জরুরি ছিল। ফর্মের ঘাটতিই যদি তাঁকে বাদ দেওয়ার কারণ হয়, তাহলে চার ম্যাচে ১৪ রান করা অভিষেক শর্মাকে কেন বয়ে বেড়ানো হবে? তিলক ভার্মাই বা কী করছেন? অভিষেক ইনিংসের শুরুতেই আউট হচ্ছেন দেখে, রোটেট করে দেওয়া হল। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে শুরু করলেন ঈশান কিষান। চাপটা নিতে পারলেন না তিনি। সতীর্থ যখন টানা তিনবার শূন্যতে আউট হয়েছে, তখন সঙ্গীর মনেও দ্বিধা জন্মাতে বাধ্য। কোচ গম্ভীর সেটা বোঝেননি। তাঁর এই ভুল সিদ্ধান্ত ঈশানের ফোকাসটাই নড়িয়ে দেয়। আর অফ স্পিনারদের বিরুদ্ধে বাঁ হাতি ব্যাটারদের খেলতে যখন সমস্যা হচ্ছে, তখন সূর্যকুমার যাদবই বা তিনে উঠে আসবেন না কেন?
২৬ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে ভারতীয় দলের টিম মিটিং থাকবে বেশ উত্তপ্ত। চলবে কাটাছেঁড়া। তার মধ্যে থেকে সাফল্যের পথ খুঁজে পাওয়া যায় কিনা, সেটাই দেখার!

সম্পর্কিত সংবাদ