নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘স্কুল কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুলিস স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঢুকতে পারে না। কিন্তু তাই বলে সেখানকার খবর রাখবেন না, তা হবে না। বিশেষ করে ‘মনোজিত’-এর মতো ছাত্রনেতা থাকলে, তাঁর উপর নজর রাখতে হবে।’ কসবায় ক্যাম্পাস ধর্ষণ কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শনিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে কলকাতার সব থানার ওসিদের এই ভাষাতেই সতর্ক করেছেন সিপি মনোজ ভার্মা।
সিপির এই বার্তাকে ঘিরে কলকাতা পুলিসের ওসিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বাহিনীর একাংশ প্রশ্ন তুলছে, আগ বাড়িয়ে শাসকদলের প্রভাবশালী ছাত্রনেতার উপর নজরদারি চালাতে গিয়ে কারও রোষে পড়লে লালবাজারের শীর্ষকর্তারা পাশে দাঁড়াবেন তো? তদন্তে একাধিক ফাঁকফোকর থাকায় জোড়াবাগান থানার এক পকসো মামলায় ধৃত ব্যক্তি সম্প্রতি বেকসুর খালাস হয়েছেন। তেমনই কড়েয়া থানার গণধর্ষণ মামলায় তথ্যপ্রমাণ না থাকলেও, ধৃতদের বিরুদ্ধে জোর করে চার্জশিট দিতে গিয়ে আদালতে কার্যত মুখ পুড়েছে কলকাতা পুলিসের অফিসারদের। অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে সাউথ সুর্বাবান ডিভিশনের কোনও এক থানার মারামারি ও বেআইনি অনুপ্রবেশের মামলাতে। এখানে অভিযুক্তের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট এফআইআর খারিজ করার নির্দেশ দেওয়ার ঠিক সাত মাস বাদে নিম্ন আদালতে চার্জশিট পেশ করেছেন তদন্তকারী অফিসার! আবার, কলকাতা পুলিসের এক খুনের মামলাতে ব্যালাস্টিক রিপোর্ট ‘মিসম্যাচ’ হওয়া সত্ত্বেও তা আদালতে পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার। এই ধরনের ভুল এড়াতে আগামী দিনে খুনের মামলাতে যদি পরে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়, সেক্ষেত্রে অস্ত্র আইনে পৃথক এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। মূলত, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে বারে বারে আদালতে বেআব্রু হতে হচ্ছে কলকাতা পুলিসকে। ফলে রীতিমতো অস্বস্তিতে লালবাজারের শীর্ষকর্তারা। এদিনের প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা তাই সংবাদমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ মামলার খবর দেওয়া যাবে না বলেই ফরমান জারি করেছেন!