নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহরের ঘোড়াধরা নিউ টাউনশিপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয় মাস ধরে পানীয় জলের পাম্প খারাপ। বাইরে থেকে জল এনে মিড ডে মিল রান্না করা হচ্ছিল। প্রশাসনের সব স্তরে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। বুধবার রাঁধুনিরা না আসায় ছাত্রছাত্রীদের মুড়ি চানাচুর দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, নতুন পাম্প না বসানো পর্যন্ত দুপুরের মিড ডে মিলে এখন মুড়ি চানাচুর দেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য ঘিরে শিক্ষক মহলে হইচই পড়ে গিয়েছে।
প্রাথমিক স্কুলটি ঝাড়গ্রাম পশ্চিম চক্রের স্কুল ইন্সপেক্টরের অফিস থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে। প্রি প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে মোট ৫২ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা সহ তিনজন শিক্ষিকা রয়েছেন। স্কুলের তরফে পাম্পটি সারানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সারানো যায়নি। তাই এতদিন নিকটবর্তী ঘোড়াধরা পার্ক থেকে রান্নার জন্য জল আনা হচ্ছিল। ছোট ছাত্রছাত্রীরাও রাস্তা পার হয়ে পার্কে জল আনতে যায়। জলের অভাবে স্কুলের শৌচালয় ব্যবহারও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
স্কুল কতৃপক্ষের দাবি, প্রশাসনের সর্বস্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারপরেও কোনও কাজ হয়নি। রাঁধুনিরা এদিন কাজে না আসায় দুপুরের ছাত্রছাত্রীদের মুড়ি চানাচুর খেতে দেওয়া হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কমলা বেরা বলেন, দীর্ঘ ন’মাস ধরে পানীয় জলের পাম্পটি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। মিড ডে মিলের রান্নার জন্য ৩০০ মিটার দূরে ঘোড়াধরা পার্ক থেকে জল বয়ে আনতে হয়। রান্নার পর থালা বাসন ধোয়ার জন্য স্বসহায়ক দলের মহিলাদের সঙ্গে পড়ুয়ারাও চলে পার্কে চলে যায়। ব্যস্ত রাস্তায় যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। স্বসহায়ক দলের মহিলারা অত দূর থেকে জল এনে রান্না করতে আপত্তি জানিয়েছেন। বাধ্য হয়ে এদিন পড়ুয়াদের পিঁয়াজ কুচি, সরষের তেল মাখিয়ে মুড়ি, চানাচুর খাওয়ানো হয়েছে। পাম্প না সারানো পর্যন্ত এভাবেই চলবে।
স্বসহায়ক দলের মহিলা মুক্তা রানা বলেন, দিনের পর দিন দূর থেকে জল বয়ে এনে রান্না করা সম্ভব নয়। শিক্ষিকা রঞ্জু সাঁতরা বলেন, ঝাড়গ্রাম পুরসভার মধ্যে আমাদের বিদ্যালয়েই প্রথম মিড ডে মিল চালু হয়েছিল। আগেও বহুবার পাম্প খারাপ হয়েছে। কিন্তু এতদিন ধরে কখনও পড়ে থাকেনি। ডি আই শক্তি ভূষণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন , বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পাম্প সারাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে।-নিজস্ব চিত্র