সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ার চকদ্বীপা হাইস্কুলের ক্লাস টেনের পড়ুয়া অনুভব গুছাইত, সমর্পিতা মাইতি মঙ্গলবার রাত জেগে ‹আকাশ কন্যা সুনীতা উইলিয়ামসের মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার রোমহষর্ক দৃশ্য দেখেছে। তারপর বুধবার সকাল সকাল পৌঁছে গিয়েছে স্কুলে। শুধু অনুভব বা সমর্পিতা নয়, ক্লাস নাইনের সৌমেন, সৌহার্দ্য, অরিত্রও আজ স্কুলে এসেছে তাড়াতাড়ি। তাদের বিজ্ঞানের প্রিয় স্যার কার্তিক আদকের কাছে আবদার, সুনীতা উইলিয়ামসকে আমরা অভিনন্দন জানাতে চাই। আপনাকেই তার ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজ্যের বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলায় কার্তিকবাবুই তাদের নিয়ে যান, বিজ্ঞানের নানা মডেল তৈরি করতে উৎসাহিত করেন। নাছোড়বান্দা ওই পড়ুয়াদের উৎসাহে এদিন সুনীতা উইলিয়ামসের পৃথিবীতে ফেরার একটি পনেরো ফুট ছবি দিয়ে তৈরি হল বিশাল ফ্লেক্স। সেখানে লেখা রয়েছে মহাকাশে বসবাসের এমন রেকর্ড তৈরির জন্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে সুনীতা উইলিয়ামসকে চকদ্বীপা হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন। স্কুলের সামনে সুনীতার ছবি জাতীয় পতাকায় মুড়ে আবেগে ভাসলেন পড়ুয়া থেকে শিক্ষক সকলেই।
স্কুলের প্রার্থনা সভায় প্রধান শিক্ষক মণিশঙ্কর গিরি বলেন, সুনীতা উইলিয়ামস শুধু ভারতের নন, সারা পৃথিবীর গর্ব। তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একটানা ২৮৬ দিন কাটানোর পরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভচারিনী ও তাঁর সঙ্গীরা বুধবার ভোরবেলায় পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। এই উপলক্ষে চকদ্বীপা হাই স্কুলের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিন প্রায় ২০ মিনিট ধরে ছাত্রছাত্রীদের তিনি এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক কার্তিকবাবু বলেন, পড়ুয়াদের মধ্যে আকাশ নিয়ে জিজ্ঞাসা বাড়িয়ে তুলতে এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সুনীতা উইলিয়ামসের পৃথিবীতে ফিরে আসার ঘটনাটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে। এদিন স্কুলের ল্যাবে বড় পর্দায় ছাত্রছাত্রীদের সেটি দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, চকদ্বীপা হাই স্কুলের ছাত্র রাজিবুল ইসলাম এখন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী। গত পঞ্চাশ বছর ধরে ওই স্কুল জেলা ও রাজ্যে মৌলিক বিজ্ঞান মডেল তৈরিতে সুনাম অর্জন করেছে। এবছর জেলায় চকদ্বীপার আলোর গতি সরাঙ্কের মডেল দ্বিতীয় হয়েছে। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা জেলা স্তরে তৃতীয় হওয়ার পর রাজ্যে সাফল্য পেয়েছিল। হাইড্রলিক ব্রিজের মডেল তাক লাগিয়েছিল সবাইকে।-নিজস্ব চিত্র