


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রায় ৭০ হাজার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া নজরদারি চালাচ্ছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়নি। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। নির্দেশিকা অনুসারে, প্রথম পর্যায়ের টাকা পাওয়ার পর বাড়ি তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। সেই কাজের ছবি পোর্টালে আপলোড করার পরেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন উপভোক্তারা। তবে এলাকার বাসিন্দাদের কথায়, বাড়ি তৈরির সামগ্রীর দাম অনেকটাই বেশি। তাই অনেকেই কাজ শুরু করার কথা ভাবলেও পিছিয়ে যাচ্ছেন। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, ৭০ শতাংশের বেশি বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। অনেকেই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। সেই সকল পরিবারের সঙ্গে কথা হচ্ছে। জেলার মানুষের পাশে প্রশাসন সর্বদা থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ২ লক্ষ ৭৬ হাজারের বেশি পরিবার সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রথম ধাপে বাড়ি পাচ্ছেন ১ লক্ষ ৫৮৭টি পরিবার। ইতিমধ্যেই তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৬০৩ কোটি টাকা। টাকা পেয়ে অনেকেই বাড়ি তৈরি করতেও শুরু করেছেন।
জানা গিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগ এনে আবাস যোজনার টাকা আটকে দেয় কেন্দ্র। এরফলে সমস্যায় পড়ে লক্ষাধিক পরিবার। তবে রাজ্য সরকারের লক্ষ্য সকলের জন্য স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করা। তাই রাজ্য সরকার দ্রুত গৃহহীনদের সমস্যার সমাধান করতে চাইছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এমনকী সম্পূর্ণ কাজটি যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃত গরিব মানুষই যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পায়। জানা গিয়েছে, রাজ্যে জুড়ে ১২ লক্ষ মানুষ বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এরফলে উপকৃত হবেন বহু প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি বাড়ি তৈরি হবে।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ২০২১-২২ সালে তৈরি হওয়া উপভোক্তাদের লিস্টের উপর জেলায় ৩ লক্ষের বেশি বাড়িতে সার্ভে করার কাজ শুরু করেছিল প্রশাসন। সার্ভে করার কাজ করেছে ১ হাজার ৭৫৬টি দল। মহকুমা শাসক থেকে প্রতিটি ব্লকের বিডিওরাও সার্ভের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একইসঙ্গে এই প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা রাখতে প্রায় ৬০ হাজার বাড়িতে সুপার চেকিং করা হয়েছে। তবে এখনও কেন ৩০ শতাংশ বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়নি, এনিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেশপুর ব্লকের সমীর মণ্ডলের কথায়, বাড়ি পেয়ে খুব উপকার হয়েছে। কাজ শুরু করছি। তবে এলাকায় অনেকেই শুরু করতে পারেনি। বালি, সিমেন্টের দাম অনেকটাই বেশি। কিন্তু রাজ্য সরকার পাশে দাঁড়িয়েছে, এতেই খুশি।